পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের মধ্যে একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার আঙ্কারায় তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক হয় বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর বৈদেশিক বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও ছিলেন। বাংলাদেশের নতুন সরকার গঠনের পর দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে এটিই প্রথম দ্বিপক্ষীয় বৈঠক।

বিজ্ঞপ্তিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দ্বিপক্ষীয় এ বৈঠক চলাকালে কূটনৈতিক প্রশিক্ষণ এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তুরস্কের ডিপ্লোম্যাসি একাডেমি এবং বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিস একাডেমির মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক(এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এছাড়া বৈঠকে উভয় পক্ষ তুরস্ক ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেন।

এ সময় ড. খলিলুর রহমান বাংলাদেশে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির গুরুত্বের ওপর আলোকপাত করেন এবং বাংলাদেশ থেকে তুরস্কে দক্ষ মানবসম্পদ রফতানি সম্প্রসারণের সম্ভাবনার ওপর জোর দেন। উভয় পক্ষই বৈঠকের ফলাফল আগামী বছরগুলোয় তুরস্ক ও বাংলাদেশের মধ্যে সহযোগিতা আরো সুদৃঢ় করতে এবং কৌশলগত অংশীদারত্ব গভীর করতে অবদান রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে।

বৈঠক শেষে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী একটি যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেন। এ সময় তারা তুরস্ক ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো জোরদারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তারা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়েও মতবিনিময় করেন এবং গাজায় শান্তি প্রচেষ্টার সমর্থনে একযোগে কাজ করার যৌথ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সম্মানে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান একটি ইফতার ও ওয়ার্কিং ডিনারের আয়োজন করেন, যেখানে উভয় পক্ষ দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিভিন্ন দিক এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যান।

তুরস্ক দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় উভয় ফোরামে বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। এই প্রেক্ষাপটে দেশটি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের আসন্ন অধিবেশনে বাংলাদেশের সভাপতিত্বের প্রার্থিতার প্রতি তাদের নিঃশর্ত সমর্থন ব্যক্ত করেছে।