সারা দেশে জ্বালানি তেল বিক্রিতে বিদ্যমান রেশনিং পদ্ধতি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামীকাল রোববার থেকে দেশের সব পেট্রোল পাম্প-ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল ও বিক্রির সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকবে বলে জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্মসচিব (অপারেশন) মনির হোসেন চৌধুরী বণিক বার্তাকে রেশনিং পদ্ধতি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, রেশনিং প্রত্যাহারের বিষয়টি নিয়ে আগামীকাল এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে। দেশে জ্বালানি তেলের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ দেয়া হবে। আপাতত ঈদ উপলক্ষে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান রেশনিং প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে দেশে জ্বালানি তেল নিয়ে উদ্বেগ-আতঙ্কের প্রেক্ষাপটে সারা দেশে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল বিক্রিতে রেশনিং পদ্ধতি শুরু করে সরকার। সেই প্রেক্ষাপটে ফিলিং স্টেশনগুলোতে তীব্র ভিড় তৈরি হয়। ফিলিং স্টেশনগুলো পর্যাপ্ত জ্বালানি সংকটে বিভিন্ন জেলায় পেট্রোল পাম্প বন্ধ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিদ্যমান রেশনিং ব্যবস্থা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

এর আগে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশে অস্বাভাবিক আকারে জ্বালানি তেলের বিক্রি বেড়ে যায়। অতিরিক্ত জ্বালানি তেলের বিক্রি ঠেকাতে ৬ মার্চ থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহে সীমা বেঁধে দেয় সরকার। ১০ মার্চ ‘রাইড শেয়ার’ করা মোটরসাইকেলের শুরুতে ২ লিটার অকটেন-পেট্রোল সরবরাহের সিদ্ধান্ত নেয়। যদিও পরে সীমা বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৫ লিটার করা হয়। এ ছাড়া ফিলিং স্টেশনগুলোতে ৭ মার্চ থেকে চাহিদার চেয়ে ২৫ শতাংশ হারে কম সরবরাহ করা হচ্ছিল। ১১ মার্চ থেকে বিভাগীয় শহরের ফিলিং স্টেশনে ১০ শতাংশ সরবরাহ বাড়ানো হয়। এরপর চাহিদামতো সরবরাহ পেতে সংবাদ সম্মেলন করে দাবি জানান স্টেশনের মালিকেরা। গতকাল খুলনায় শনিবার ডিপো থেকে তেল উত্তোলন বন্ধ ছিল। খুলনা বিভাগসহ আশপাশের সবমিলিয়ে ১৫ টি জেলার জ্বালানি তেল সংগ্রহ বন্ধ রয়েছে। রাজশাহী বিভাগে আগামী সোমবার থেকে জ্বালানি তেল সংগ্রহ বন্ধের হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে। ফিলিং স্টেশন নেতাদের এমন হুঁশিয়ারির মধ্যে সরকার জ্বালানি তেলের রেশনিং পদ্ধতি প্রত্যাহারের ঘোষণা এল।