বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, ‘আমি ফিরে এসেছি মানুষের কাছে, মানুষের জন্য এবং বাংলাদেশের জন্য কাজ করতে। জীবনের শেষ দিনগুলো যেন মানুষের জন্য কাজ করতে পারি—সকলের কাছে সেই দোয়া চাই।’

গতকাল বিকালে সংসদে আসরের নামাজের বিরতির পর প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস এ দোয়া চান। সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় সাড়ে পাঁচ মাস চিকিৎসা শেষে বুধবার রাতে দেশে ফেরেন তিনি।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হলে ট্রেজারি বেঞ্চের প্রথম সারিতে হুইলচেয়ারে বসা মির্জা আব্বাসকে দেখে শুভেচ্ছা জানান স্পিকার।

ট্রেজারি বেঞ্চের প্রথম সারিতে মির্জা আব্বাসের উপস্থিতি ঘোষণা করে স্পিকার বলেন, ‘সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস উদ্দিন দীর্ঘ পাঁচ মাস চিকিৎসার পর দেশে ফিরে এসেছেন। আপনাকে (মির্জা আব্বাস) এ সংসদে স্বাগতম জানাচ্ছি।’

এ সময় জাতীয় সংসদের সদস্যরা টেবিল চাপড়ে তাকে স্বাগত জানান। হুইলচেয়ারে বসা মির্জা আব্বাস ডান হাত একটু উঠিয়ে সালাম জানান।

প্রথম সারিতে ৫ নম্বর আসনটি মির্জা আব্বাসের। হুইল চেয়ারে বসা বলে তিনি সেখানে যেতে পারেননি। এ সময় বিএনপির সংসদ সদস্য আমানউল্লাহ আমানের মাইক থেকে বক্তব্য রাখেন মির্জা আব্বাস।

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার, আপনি নিজে সিঙ্গাপুরে গিয়ে আমাকে দেখে এসেছেন। একজন সংসদ সদস্যের প্রতি সংসদের স্পিকারের এ মানবিক ও আন্তরিক আচরণ আমাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। আপনার এ ভালোবাসা ও আন্তরিকতার কথা আমি কোনোদিন ভুলব না। এটি শুধু একজন অসুস্থ মানুষের প্রতি সহমর্মিতা নয়; এটি আমাদের সংসদীয় গণতন্ত্রের মানবিক সৌন্দর্যের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।’

বক্তব্যের শুরুতে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন মির্জা আব্বাস।

বিএনপির এ সিনিয়র নেতা বলেন, ‘২০০৬ সালের পর দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পেরিয়ে আজ আবার মহান জাতীয় সংসদের এ পবিত্র কক্ষে কথা বলার সুযোগ পেয়েছি। একজন সংসদ সদস্য হিসেবে এর চেয়ে আনন্দের ও গর্বের মুহূর্ত আর কী হতে পারে।’

গত ১১ মার্চ স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হওয়ায় সংসদে না আসার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ সময় চিকিৎসার জন্য আমাকে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় থাকতে হয়েছে। শারীরিক অসুস্থতার কারণে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সংসদের অধিবেশনে নিয়মিত উপস্থিত হতে পারিনি।’

তিনি বলেন, ‘চিকিৎসা শেষে প্রথমবার সংসদে উপস্থিত হতে পেরে মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। একই সঙ্গে অসুস্থতার সময়ে যারা দোয়া করেছেন, খোঁজখবর নিয়েছেন এবং পাশে থেকেছেন, তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘অসুস্থতার সময়ে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিয়েছেন। এজন্য তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘আজকে সংসদে ফিরে এসে আমার কাছে মনে হয়েছে, রাজনীতি শুধু মতের পার্থক্য নয়, রাজনীতি মানুষের জন্য; সংসদ শুধু বিতর্কের জায়গা নয়, এটি মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।’

নিজের নির্বাচনী এলাকা ও দেশের মানুষের জন্য কাজ করার কথা জানিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘মহান আল্লাহ যেন সুস্থতা ও শক্তি দেন, যাতে অবশিষ্ট সময় আরো নিষ্ঠা, সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে মানুষের জন্য কাজ করতে পারি।’

সংসদের বিরতির সময়ে মির্জা আব্বাস প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিজের চেম্বারে কিছু সময় কাটান। এ সময় সংসদ সদস্যরা তার সঙ্গে দেখা করে কুশল বিনিময় করেন।