কোটা আন্দোলন ও দেশজুড়ে কারফিউ জারির পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৮ জুলাই থেকে বন্ধ থাকা ট্রেন চলাচল আগামীকাল পুনরায় শুরু হচ্ছে। কারফিউ শিথিল থাকাকালে কাল থেকে স্বল্প দূরত্বের লোকাল, মেইল ও কমিউটার ট্রেনগুলো চলাচল করবে। বন্ধ থাকা ট্রেন চলাচল পুনরায় চালুর বিষয়ে গতকাল রেল ভবনে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
সভা শেষে রেলপথমন্ত্রী জিল্লুল হাকিম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম, কারফিউ যখন থাকবে না, কারফিউ শিথিল থাকবে তখন আমরা ট্রেন চালাব। কারফিউর সময় কোনো সময় ট্রেন চলবে না। ট্রেনগুলো যতদূর যাবে ওখান থেকে ফিরে আসবে। এখন আমাদের টাইম অ্যাডজাস্টমেন্ট করতে হবে। এটা কালকে ঠিক করে হয়তো পরশু (বৃহস্পতিবার) থেকে ট্রেন চালানো হতে পারে।’
পরে বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করলে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক সরদার সাহাদাত আলী জানান, শুরুতে শুধু মেইল, লোকাল ও কমিউটার ট্রেন চলবে। এরপর ধীরে ধীরে আন্তঃনগর ট্রেন চালু করা হবে।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা-গাজীপুর ও ঢাকা-টাঙ্গাইল পথের কমিউটার ট্রেনগুলো বেশি চলাচল করবে। কারফিউ শিথিল থাকা সময় তিন-চারবার যাতায়াত (ট্রিপ) করতে পারবে। দূরবর্তী যাত্রার মধ্যে ঢাকা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মধ্যে চলাচল করবে তিতাস কমিউটার ট্রেন। স্বাভাবিক সময়ে তিতাস ট্রেন দিনে চারবার আসা-যাওয়া করে। বৃহস্পতিবার একবার আসা-যাওয়া করতে পারে।
ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পথে স্বাভাবিক সময়ে ২০ বারের বেশি কমিউটার ট্রেন যাতায়াত করে। তবে শুরুতে চার-পাঁচবার আসা-যাওয়া করতে পারে বলে রেলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
রেলের পশ্চিমাঞ্চলে (রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগ) কয়েকটি পথে ট্রেন চলাচল করতে পারে। এর মধ্যে রাজশাহী থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং লালমনিরহাট থেকে বুড়িমারী পর্যন্ত চলাচল করবে কমিউটার ট্রেন। এছাড়া ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে রাজবাড়ী পর্যন্ত কমিউটার ট্রেন চালুর পরিকল্পনা আছে। এর বাইরে রাজশাহী থেকে রাজবাড়ী ও ফরিদপুরের পথেও লোকাল ট্রেন চলতে পারে।
চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী রুটে ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা আছে রেল কর্তৃপক্ষের।
কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রভাবে ১৮ জুলাই থেকে বন্ধ হয়ে যায় যাত্রী ও পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল। এর মধ্যে গত ২৪ জুলাই সীমিত পরিসরে কয়েকটি পণ্যবাহী ট্রেন পরিচালনা করে রেলওয়ে। তবে ২৫ জুলাই পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল আবার বন্ধ করে দেয়া হয়। বর্তমানে কেবল বিজিবি প্রহরায় জ্বালানি তেলবাহী ট্রেন চলাচল করছে। বৃহস্পতিবার থেকে পণ্যবাহী ট্রেনও কিছু চলতে পারে বলে রেলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।










