চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার সোনালী ব্যাংকের উথলী শাখায় ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে গতকাল। দুপুরের দিকে তিন যুবক আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জিম্মি করে ক্যাশ ও ভল্ট থেকে প্রায় ৮ লাখ ৮৩ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়। ডাকাতি শেষে ওই তিন যুবক মোটরসাইকেলযোগে পালিয়ে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে হেলমেটে মুখ ঢাকা তিন সন্দেহভাজন যুবক ব্যাংকে প্রবেশ করে গেট বন্ধ করে দেয়। এরপর তারা অস্ত্রের মুখে ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জিম্মি করে টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।

সোনালী ব্যাংক উথলী শাখার ব্যবস্থাপক আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, বেলা ১টার দিকে ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সবাই যার যার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। ওই সময় তিন ব্যক্তি হেলমেট পরা অবস্থায় ব্যাংকের ভেতরে প্রবেশ করে। তারা প্রথমে নিরাপত্তারক্ষীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে গেট বন্ধ করে দেয়। অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তারা ব্যাংকে উপস্থিত সবার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এরপর গুলি চালানোর হুমকি দিয়ে ব্যাংক থেকে টাকা ছিনিয়ে তারা দ্রুত সটকে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শী রাসেল হোসেন মুন্না, সুজন, সাইফুল ও এনামুল বলেন, ব্যাংকের টাকা লুট করে তিন ব্যক্তি হেলমেটে মুখ ঢাকা অবস্থায় মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় আমরা কয়েকজন পেছনে ধাওয়া করি। কিন্তু আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে তারা গুলি করার হুমকি দিলে ভয়ে আমরা আর এগোইনি। এ সময় তারা জীবননগরের ডুমুরিয়ার রাস্তা দিয়ে আন্দুলবাড়িয়ার দিকে চলে যায়।

ব্যাংক লুটের ঘটনার পর খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি একেএম নাহিদুল ইসলাম সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলামও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

সোনালী ব্যাংক প্রিন্সিপাল অফিসার ডিজিএম খন্দকার আব্দুস সালাম বলেন, উথলী সোনালী ব্যাংকের ক্যাশ কাউন্টার ও ভল্ট থেকে ৮ লাখ ৮২ হাজার ৯০০ টাকা লুট হয়েছে। ওরা শুধু ১২ হাজার টাকার কয়েন নিতে পারেনি। 

তিনি আরো বলেন, ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করার কারণে কোনো শাখায়ই সিসিটিভি ক্যামেরা নেই। এ কারণে ব্যাংক থেকে কিছু খোয়া গেলে তা কোনোভাবেই দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হয় না। 

এ সময় উষ্মা প্রকাশ করে তিনি আরো বলেন, মান্ধাতা আমলের চিন্তার কারণে সোনালী ব্যাংকে চাকরি করাটাই এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। আমাদের ওপরে দায় বর্তালেও আমরা নিজ উদ্যোগে ব্যাংকিং সুবিধার জন্য কিছুই করতে পারি না। সেটার জন্যও আমাদের প্রধান কার্যালয়ের শরণাপন্ন হতে হয়। উথলী শাখা থেকে টাকা লুটের ঘটনায় আমরা আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছি। শাখার ব্যবস্থাপক এ ঘটনায় বাদী হয়ে একটি মামলা করবেন।

তবে ঘটনায় সন্দেহভাজনদের আটক করার বিষয়ে আশাবাদী পুলিশ। জেলার পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম বলেন, সোনালী ব্যাংক উথলী শাখায় টাকা লুটের ঘটনা আমাদের গোচরে আসার পর থেকে আমরা উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের আটকের চেষ্টা চালাচ্ছি। আশা করা যায় ভালো ফলাফল আসবে।

জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম বলেন, সোনালী ব্যাংক উথলী শাখা থেকে ৮ লাখ ৮৩ হাজার টাকা লুট হওয়ার খবর পেয়ে আমরা লুটেরাদের আটক করার চেষ্টা চালাচ্ছি। দ্রুতই তাদের আটক করা সম্ভব হবে।