কৃষিতে সম্ভাবনা দেখছেন খুলনা বিভাগের সাত জেলার ৪৬ উপজেলার অন্তত পাঁচ লাখ কৃষক। ক্ষুদ্র সেচ উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে এ অঞ্চলের কৃষকরা আধুনিক সেচ সুবিধা পাচ্ছেন। এটি আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে যেমন সহায়ক হবে, তেমন কৃষি ব্যয়ও হ্রাস করবে। ১৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) এ সুবিধা নিশ্চিত করেছে। গতকাল যশোরের চাঁচড়ায় আধুনিক সেচ ব্যবস্থানায় বিএডিসির ভূমিকা শীর্ষক এক সেমিনারে এ তথ্য জানানো হয়।

বিএডিসির যশোর সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল রশিদ জানিয়েছেন, ১৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৭ সালের অক্টোবরে বৃহত্তর খুলনা-যশোর জেলায় ক্ষুদ্র সেচ উন্নয়ন প্রকল্প শুরু হয়। ছয় বছর মেয়াদি এ প্রকল্পে খুলনা বিভাগের সাত জেলার ৪৬ উপজেলায় ৩০০ কিলোমিটার খাল খনন, ১০০টি ১ হাজার ২০০ মিটার ও ১০০টি এক হাজার মিটারের সেচ পাম্প স্থাপন, কালভার্ট ও বক্স কালভার্ট নির্মাণসহ অন্যান্য উন্নয়ন করা হয়েছে। এতে অন্তত পাঁচ লক্ষাধিক কৃষক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সুফল পাচ্ছেন। গ্রাম পর্যায়ে খাল খননের ফলে সেখানকার কৃষক পাট জাগ দিচ্ছেন। সে খালের পানি প্রয়োজন অনুসারে ব্যবহার করতে পারছেন।

যশোরের কেশবপুরের কৃষক সাইদুর রহমান জানিয়েছেন, বৃহত্তর খুলনা-যশোর জেলার ক্ষুদ্র সেচ উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে তাদের এলাকার চাষীরা সুফল পাচ্ছেন। বিশেষ করে ইরিগেশনে তাদের আগে সেচের সমস্যা থাকলেও এখন সেটা সমাধান হয়েছে।

এদিকে বুধবারের এ সেমিনার থেকে ভবদহ এলাকার জলাবদ্ধ নিরসনে বিএডিসিকে ভূমিকা নিতে কৃষক ও অংশগ্রহণকারী অন্যরা উদ্যোগ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, সেখানকার পানি পাইপ লাইনের মাধ্যমে দূরে সরিয়ে সেচকাজে ব্যবহার করলে ভুক্তভোগী মানুষগুলোর দুর্ভোগ লাঘব হতে পারে।

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএডিসির ক্ষুদ্র সেচ উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক (সদস্য) জিয়াউল হক। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএডিসির প্রধান প্রকৌশলী লুত্ফর রহমান।

এতে সভাপতিত্ব করেন বিএডিসির যশোর সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল রশিদ। বক্তব্য রাখেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. মাহফুজুর রহমান রোমেল, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোরের উপপরিচালক বাদল চন্দ্র বিশ্বাস, মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট যশোর সাধু পানি উপকেন্দ্রের সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শরীফুল ইসলাম, বিএডিসির সহকারী প্রকৌশলী সোহেল রানা, কৃষক গোলাম মোস্তফা প্রমুখ।