যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের আড়াই কোটি টাকা চেক জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাতের ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক এএমএইচ আলী আর রেজা। গতকাল দুদক যশোর কার্যালয়ের উপপরিচালকের কাছে জালিয়াতি মামলা করার অনুরোধ জানিয়ে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন বোর্ড সচিব। অভিযোগ পাওয়ার ২ ঘণ্টা পর শিক্ষা বোর্ডে যায় দুদকের একটি দল। এদিকে চেক জালিয়াতির ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর পালিয়েছেন বোর্ডের হিসাব সহকারী আব্দুস সালাম। গতকাল তিনি ডাকযোগে ১৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার জমা দিয়েছেন। বাকি টাকা পর্যায়ক্রমে জমা দেবেন বলে চিঠিও দিয়েছেন বোর্ড কর্তৃপক্ষকে।

শিক্ষা বোর্ড সচিব স্বাক্ষরিত অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রতি আর্থিক বছরের মতো এবারো বোর্ডের আয়-ব্যয় যাচাইয়ের লক্ষ্যে কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে ব্যাংক হিসাব মিলকরণ করা হয়। এ সময় দেখা যায়, বোর্ডের ব্যয় অ্যাকাউন্ট এসটিডি-২৩২৩২৪০০০০০২৪ হিসাব খাতে নয়টি চেক পরিশোধিত হয়েছে, যা বোর্ডে সংরক্ষিত মুড়ি বইয়ের চেকে উল্লিখিত টাকার পরিমাণের সঙ্গে ব্যাংক থেকে পরিশোধিত টাকার মিল নেই। তখন হিসাব প্রদান শাখার হিসাব রেজিস্ট্রারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়। এক্ষেত্রে দেখা যায়, বোর্ডে সংরক্ষিত মুড়ি বইয়ের উল্লিখিত নয়টি চেকের তারিখ অনুযায়ী হিসাব শাখার ব্যয় রেজিস্ট্রারের ব্যয় বিবরণীতে ভ্যাট ও আয়কর বাবদ সরকারি কোষাগারে অর্থ পরিশোধিত হয়নি, অথচ ওই চেকের মুড়ির বিপরীতে চেক জালিয়াতি করে দুটি প্রতিষ্ঠান ব্যাংক থেকে ২ কোটি ৫০ লাখ ৪৪ হাজার ১০ টাকা উত্তোলন করে নিয়েছে। জালিয়াত চক্র দুটি চেক ইস্যু করার সঙ্গে কৌশলে অন্য বিল থেকে ভ্যাট ও আয়কর সরকারি কোষাগারে জমা দেয়ার ইস্যুকৃত চেকগুলোর মুড়ির নম্বর এবং তারিখের সঙ্গে মিল রেখে বোর্ড তহবিল থেকে অর্থ উত্তোলন করে নিয়েছে, যা বোর্ডের আয়-ব্যয়ের সঙ্গে ব্যাংক হিসাব নিরীক্ষার সময় ধরা পড়ে।

অভিযোগে নয়টি চেকের বিবরণ দিয়ে উল্লেখ করা হয় ভেনাস প্রিন্টিংয়ের নামে সাতটি চেকে ১ কোটি ৮৯ লাখ ১২ হাজার ১০ টাকা এবং ফটোকপিয়ারের দোকান শাহীলাল স্টোরের নামে দুটি চেকে ৬১ লাখ ৩২ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

বোর্ডের সচিব অভিযোগ দেয়ার পর বেলা ১১টা ১৫ মিনিটের দিকে উপপরিচালক নাজমুচ্ছায়াদাতের নেতৃত্বে দুদকের একটি দল শিক্ষা বোর্ডে যায়। তারা বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মোল্লা আমীর হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

দুদক উপপরিচালক জানান, শিক্ষা বোর্ড থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর তারা সেটি ঢাকায় প্রধান কার্যালয়কে অবহিত করে তদন্তের নির্দেশ পেয়েছেন।

শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোল্লা আমীর হোসেন জানান, শুক্র ও শনিবার দুইদিন সাপ্তাহিক ছুটির পর গতকাল অফিসে আসেননি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হিসাব সহকারী আব্দুস সালাম। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার বিকালে অডিট শাখায় টাকা আত্মসাতের ঘটনা শনাক্ত হওয়ার পর দ্রুত অফিস ত্যাগ করেন সালাম। মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ধরেননি। বিভিন্ন মাধ্যমে জানা গেছে, তিনি পরিবারসহ বাড়ি ছেড়েছে। তবে গতকাল বিকালে সালামের পাঠানো ১৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার হাতে পেয়েছেন। তার কাছে থাকা বাকি টাকাও ফেরত দেবেন বলে চিঠি দিয়েছেন।

তিনি আরো জানান, বিভিন্ন মাধ্যমে সালাম, ভেনাস প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিংয়ের মালিক শরিফুল ইসলাম বাবু ও আশরাফুল জানিয়েছেন, তারা টাকা ফিরিয়ে দেবেন।

প্রসঙ্গত, ৭ অক্টোবর যশোর শিক্ষা বোর্ডের অডিট শাখা হিসাব নিরীক্ষা করতে গিয়ে ধরা পড়ে ভ্যাটের জন্য দেয়া নয়টি চেকের মাধ্যমে জালিয়াতি করে ২ কোটি ৫২ লাখ ৪৪ হাজার ১০ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। চেকগুলো ভেনাস প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং ও শাহীলাল স্টোরের নামে ইস্যু করা হয়।