একীভূত হতে যাওয়া পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকদের জন্য বিশেষ হটলাইন চালু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেন, গ্রাহকদের জন্য আমরা একটি পূর্ণাঙ্গ হটলাইন সেবা চালু করতে যাচ্ছি। এর মাধ্যমে যে কেউ ফোনে, মেইলে অথবা ডাকযোগে তাদের অভিযোগ জানাতে পারবেন। অভিযোগ পেলে তা খতিয়ে দেখা হবে। আমরা চাই, প্রতিটি গ্রাহক যেন তার ন্যায্য পাওনা বুঝে পায়। কোনো ধরনের প্রশাসনিক দুর্বলতা বা অস্পষ্টতার কারণে যেন কোনো গ্রাহকের অসুবিধা না হয়।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
একীভূত হতে যাওয়া পাঁচ ব্যাংক হলো ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক।
গত ২০২৪ ও ২০২৫ সালে ব্যাংকগুলো হাজার কোটি টাকা লোকসান করায় এ দুবছরের জন্য গ্রাহকদেরকে কোনো ধরনের মুনাফা না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। সমালোচনার মুখে পড়ে পরবর্তীতে ওই দুই বছরের জন্য ৪ শতাংশ হারে মুনাফা দেয়ার সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এজন্য সরকারের প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা খরচ হচ্ছে বলে জানান গভর্নর।
তিনি বলেন, ইসলামী ধারার ব্যাংকিংয়ে লাভ-ক্ষতির ভিত্তিতে মুনাফা দেয়া হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের অডিটে ব্যাংকগুলো হাজার হাজার কোটি টাকা লোকসান করেছে। এরপরও সরকার গ্রাহকদের দুরবস্থার কথা বিবেচনা করে ৪ শতাংশ অনুকম্পা দিচ্ছে। শরীয়া নীতি অনুযায়ী এটি মুনাফা নয়; বাস্তবতা বিবেচনা করে সরকার ‘এহসান’ করছে। এটি কোনো অধিকার নয়, বরং সরকারের সদিচ্ছা। এতে সরকারের প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। এ ছাড়া ২০২৩ সাল পর্যন্ত আগের নির্ধারিত হারেই মুনাফা থাকবে। আর ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ঘোষিত বাজার ভিত্তিক মুনাফা দেয়া হবে।
গভর্নর আরো বলেন, অনেক সময় কোনো বার্তা মাঠ পর্যায়ে যেতে যেতে কিছুটা বিকৃত হয়ে যায়। এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে এ সমস্যাকে দূর করার জন্য আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। এরইমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে মাঠ পর্যায়ে পরিদর্শন শুরু হয়েছে। ব্যাংক কর্মকর্তারা গ্রাহকদেরকে ঠিকঠাক সেবা দিতে পারছেন কি না, তা দেখা হচ্ছে।










