পঞ্চগড়ে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কঠোর লকডাউনের মধ্যেই জেলার সবচেয়ে বড় পশুর হাট রাজনগর হাট বসিয়েছেন ইজারাদার। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অর্ধবেলা চলেছে পশুর হাট। স্বাস্থ্যবিধির কোনো বালাই ছিল না পশুর হাটটিতে। খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিজিবি গিয়ে হাট বন্ধ করে দেয়।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, রাজনগর হাটের ইজারাদার সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে হঠাৎ গতকাল সকাল থেকে পশুর হাটের কার্যক্রম শুরু করেন। এর আগেই ইজারাদের লোকজন চারপাশে পশুর হাট চালু করার বিষয়টি ছড়িয়ে দেয়। এতে গতকাল সকাল থেকে দূর-দূরান্ত থেকে পশু নিয়ে আসেন ব্যবসায়ীসহ খামারিরা। মুহূর্তেই রাজনগর পশুর হাটের তিনটি স্থানে হাজারো মানুষের ভিড় জমে যায়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় হাটে পাঁচ উপজেলা থেকে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড়। পশুর হাটটির জনসমাগম ঠেকাতে তিনটি স্থানে পশু বিক্রির ব্যবস্থা করে ইজারাদার। এর মধ্যে জালাসি এলাকার পূর্ব জালাসি মসজিদের সামনে ছাগল, জালাসি এলাকায় সড়কের উত্তর পাশে ও রাজনগর মূল হাটটিতে গরু বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়। সকাল থেকেই জালাসি মোড় হতে পূর্ব জালাসি পর্যন্ত সড়কের দুপাশে নসিমন, পিকআপসহ অন্যান্য যানবাহনের সারি অপেক্ষমান। পরে প্রশাসনের নির্দেশের পর হুইসেল বাজিয়ে পশুর হাটের ক্রেতা-বিক্রেতাদের সরিয়ে হাট বন্ধ ঘোষণা করেন। এ সময় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফ হোসেনের নির্দেশে সহকারী কমিশনার ভূমি হাট বন্ধ করার জন্য তাত্ক্ষণিক মাইকিং করে হাট বন্ধের ঘোষণা করে। সেই সঙ্গে গরু নিয়ে বিক্রেতাদের ১০ মিনিটের মধ্যে হাট ত্যাগ করার কথা প্রচার করেন। হাটে আসা লোকজনকে সরিয়ে দেন। পরে হাট ভেঙে যায়।
ওই হাটের ইজারাদার মোশারফ হোসেন পশুর হাট বসানোর কথা স্বীকার করে বলেন, আমাকে পৌর মেয়র জাকিয়া খাতুন ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম মৌখিক নির্দেশনা দিয়েছিল হাট বসানোর জন্য। তবে স্বাস্থ্যবিধির জন্য মাস্ক পরতে বাধ্য করা হয়েছে ক্রেতা-বিক্রেতাসহ হাটে উপস্থিত জনগণকে। হাত ধোয়ার জন্য পানির ট্যাংক বসানো হয়। অনবরত মাইকিং করা হয়েছে। গত করোনাকালেও হাট ইজারা নিয়ে প্রায় কোটি টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে। এবারো মনে হয় লোকসান হবে ২ কোটি টাকা।
তবে পৌর মেয়র জাকিয়া খাতুন জানান, লকডাউনে পশুর হাট বসানোর কোনো অনুমতি দেয়া হয়নি। সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম বলেন, রাজনগর হাটটির ইজারাদানকারী কর্তৃপক্ষ হচ্ছে পঞ্চগড় পৌরসভা। এজন্য রাজনগর হাট চালু করার সিদ্ধান্ত দেয়ার প্রশ্নই আসে না। আমি খবর পেয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ রাজনগর হাটে গিয়েছি।
এদিকে পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফ হোসেন জানান, প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য করে যারা হাট বসিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।









