এসব জমি দখল করে গড়ে উঠেছে হাটবাজার, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বসতবাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনা। অভিযোগ রয়েছে, নড়াইলে পাউবোর ২ হাজার ৭৫০ একর জমির মধ্যে ১ হাজার ৩৫০ একর বেদখলে আছে। এসবের বেশির ভাগ জমি ব্যক্তিমালিকানায় রেকর্ডও হয়ে গেছে। দখল হয়ে যাওয়া জমির বর্তমান বাজারমূল্য অন্তত ৫০০ কোটি টাকা। স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রেই প্রশাসন নীরব থেকেছে।
জানা গেছে, ১৯৬২ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে নড়াইল সদর, লোহাগড়া ও কালিয়া উপজেলার ১৬০টি মৌজায় ২ হাজার ৭৫০ একর জমি অধিগ্রহণ করে পাউবো। ৪৫০টি এলএ (ল্যান্ড অ্যাকুইজিশন) কেসের মাধ্যমে এসব জমি নেয়া হয়। তবে বর্তমানে অভিযোগ উঠেছে, অধিগ্রহণ করা জমির অন্তত ১ হাজার ৩৫০ একর বেদখল হয়ে গেছে। এসব জমির কোথাও গড়ে উঠেছে কাঁচাবাজার, কোথাও স্থায়ী দোকানপাট, কোথাও আবার বহুতল ভবন ও আবাসিক স্থাপনা। বেশ কয়েকটি এলাকায় সরকারি সংস্থার জমিতে এখন নিয়মিত বাণিজ্যিক কার্যক্রম চলছে।
পাউবোর সার্ভেয়ার মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘২ হাজার ৭৫০ একর জমির মধ্যে ১ হাজার ৩৫০ একর জমি পাউবোর নামে রেকর্ড হয়েছে। বাকি জমি বিভিন্ন ব্যক্তির নামে রেকর্ড হয়েছে। রেকর্ড ফিরে পেতে এরই মধ্যে ৩০টি দেওয়ানি মামলা, পাঁচটি এলএসটি (ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল) মামলা ও ১৯টি নামজারি আবেদন করা হয়েছে। এছাড়া আরো তিন শতাধিক নামজারি আবেদন প্রস্তুত করা হচ্ছে। এগুলো পর্যায়ক্রমে আবেদন করা হবে। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে সব জমির রেকর্ড পাউবোর নামে ফিরে পাব।’
সরজমিনে দেখা গেছে, নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কালনা-কালিগঞ্জ সড়ক, কালিয়া উপজেলার পেড়লি এলাকাসহ তিনটি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পাউবোর জায়গা অবৈধভাবে দখল করে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন স্থাপনা। কালিয়া উপজেলার পেড়লি এলাকায় বেশ কয়েকটি স্থানে বালি ভরাট করে জায়গা দখল করে রেখেছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) নড়াইলের সভাপতি মো. শাহ আলম বলেন, ‘নদীবেষ্টিত জেলা নড়াইলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বন্যা ও নদীভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে। এমন সময় সরকারি সংরক্ষিত জমি দখল হয়ে যাওয়া ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার জন্য বড় হুমকি।
সমাজকর্মী কাজী হাফিজুর রহমান বলেন, ‘কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি বছরের পর বছর রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থেকে এসব জমি দখল করেছেন। অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ ভয় বা প্রভাবের কারণে মুখ খুলতে চান না।’
নড়াইল আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. তারিকুজ্জামান লিটু বলেন, ‘সরকারি জমি একবার ব্যক্তির নামে রেকর্ড হয়ে গেলে তা বাতিল করতে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। আইনি জটিলতা, রাজনৈতিক চাপ ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেক সময় বছরের পর বছর মামলা চলতে থাকে। এ সুযোগেই দখলদাররা স্থায়ী স্থাপনা গড়ে তোলে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরো জটিল হবে।’
পাউবো নড়াইলের নির্বাহী প্রকৌশলী অভিজিৎ কুমার সাহা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘জমির রেকর্ড যাচাই ও সীমানা নির্ধারণের কাজ চলছে। বেদখল হওয়া জমি উদ্ধারে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করার জন্য পাউবো এরই মধ্যে বেশ কয়েকবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে চিঠি দিয়েছে। জেলা প্রশাসন সার্বিকভাবে সহযোগিতা করলে পর্যায়ক্রমে জমি উদ্ধার করা হবে।’
এ বিষয়ে নড়াইল জেলা প্রশাসক ডা. মোহাম্মদ আব্দুল ছালাম বলেন, ‘নদী দখলসহ সরকারি জমি উদ্ধারে জেলা প্রশাসন কাজ করছে। পাউবো জমি উদ্ধারে সহযোগিতা চাইলে জেলা প্রশাসন আন্তরিকভারে সহযোগিতা করবে।’










