অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। যশোর-৩ (সদর) আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনি। প্রচারণার শেষ সময়ে নির্বাচনী প্রস্তুতি ও রাজনৈতিক ভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আবদুল কাদের
ভোটাররা আপনাকে কেন ভোট দেবেন?
গণতন্ত্র মানবাধিকারের কথা বলে। আামি সে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য দীর্ঘ সংগ্রাম করেছি। অন্য যেকোনো প্রার্থীর তুলনায় যশোরে আমার লড়াই আর আত্মত্যাগ সবচেয়ে বেশি। সে বিবেচনায় আমি বিশ্বাস করি, মানুষ আমাকে ভোট দেবে। আমাকে বেছে নেবে।
জয়ের ব্যাপারে আপনি কতটা আশাবাদী?
আমার জনগণের প্রতি আস্থা রয়েছে। দীর্ঘ সময় আমি জনগণের সঙ্গে মিলেমিশে চলেছি। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে, জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারলে; সৃষ্টিকর্তা আমাকে যশোর-৩ আসনে মানুষের সেবা করার সুযোগ দেবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।
নির্বাচনে জয়ী হলে কোন বিষয়গুলোয় অগ্রাধিকার দেবেন?
যশোরের একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি ছিল। সেটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমি সেই সৌহার্দ্য-সম্প্রীতি-সহাবস্থানের রাজনীতি শুরু করতে চাই। এটি আমার লালিত স্বপ্ন। যশোরকে কিশোর গ্যাংমুক্ত করতে চাই। উন্নয়নবঞ্চিত জেলাটিতে অগ্রাধিকারভিত্তিক নগরায়ণ করতে চাই। যানজটের সমস্যা দূর করতে চাই, যেটি এখন যশোরবাসীর কাছে অসহনীয় হয়ে উঠেছে। সেটি থেকে মুক্তি দিতে চাই। এছাড়া জলাবদ্ধতার সংকট দূর করতে চাই। একটি ৫০০ শয্যার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল করতে চাই। করোনারি কেয়ার পূর্ণাঙ্গ করতে চাই। যশোরে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি রয়েছে। সে দাবি পূরণে উদ্যোগ নিতে চাই। যশোরে ফুলের চাষ হয়, সেটা প্রক্রিয়াজাত করে রফতানি পণ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগ নিতে চাই। ভবদহ সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে চাই। দীর্ঘ বছর যশোরবাসী উন্নয়নবঞ্চিত। যশোরেরই মানুষ হিসেবে অন্য সব প্রার্থীর চেয়ে আমি এ জেলাকে সবচেয়ে ভালো জানি। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে যশোরের উন্নয়নে অগ্রাধিকারভিত্তিক তালিকা করে কাজ করব। আমার প্রয়াত পিতা (সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম) যশোর মেডিকেল কলেজ পূর্ণাঙ্গ করোনারি কেয়ার ইউনিট প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন, যাতে হৃদরোগের চিকিৎসায় যশোরের বাইরে যেতে না হয়। আমি এটিকে পূর্ণাঙ্গ করতে চাই। যাতে করে যশোরবাসী প্রয়োজনের সময় যশোরেই এনজিওগ্রাম ও বাইপাস সার্জারি করাতে পারেন।
মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে আপনার প্রতিশ্রুতি কী?
মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূল করতে হলে অবশ্যই রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ থাকতে হবে। সামাজিক ও ক্ষমতাসীন দলের পৃষ্ঠপোষকতায় এসব সন্ত্রাসী তৎপরতা বাড়ে। আমার রাজনৈতিক অঙ্গীকার হলো মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূল করা। যশোরবাসী যদি আমাকে নির্বাচিত করে, আমি ও আমার দল এগুলো বন্ধ করব।
যশোরের ছয়টি আসন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?
সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করছে। আমরা আশাবাদী।
সীমান্তবর্তী জেলা হিসেবে যশোরে ভোটের পরিবেশ নিয়ে কোনো শঙ্কা আছে কি?
প্রশাসনের কাছ থেকে শতভাগ নিরপেক্ষ আচরণ পাইনি এখনো। যারা নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের কাছ থেকে বাকি দিনগুলো শতভাগ নিরপেক্ষ আচরণ পাব প্রত্যাশা করছি।
ভোটারদের উদ্দেশে কী বার্তা দিতে চান?
আমি এখানকার সন্তান। দীর্ঘদিন ধরে এখানকার মানুষের ভোটের অধিকারের জন্য লড়াই করেছি। গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে লড়াই করেছি। আইনের শাসনের জন্য লড়াই করেছি। আমার বড় হওয়া, আমার পরিবার, জীবনাচার, সংগ্রাম—সবকিছু সম্পর্কেই যশোরবাসী জানে। আমি বিশ্বাস করি, অন্য যেকোনো প্রার্থীর চেয়ে তারা আমাকে ভালো চেনে। নির্বাচিত হলে এখানকার জনসাধারণের ভোটের মর্যাদা রক্ষার্থে আমার কী কী করা উচিত, সে বিষয়ও অন্য সব প্রার্থীর চেয়ে আমি ভালো জানি বলে মনে করি। ফলে অন্য যে কারো চেয়ে আমি বেশি কাজ করতে পারব।














