সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বাণিজ্যিক এলাকা কদমতলা বাজারের বুক চিরে বয়ে যাওয়া মজুমদার খালটি দখল-দূষণে অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। খালের দুই পাশজুড়ে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের পাশাপাশি ময়লা-আবর্জনা ফেলে দূষণ করা হচ্ছে পরিবেশ।

আদি যমুনা বাঁচাও আন্দোলন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যক্ষ আশেক-ইলাহী জানান, মজুমদার খাল মূলত সীমান্ত নদী সোনাই থেকে উত্পত্তি, যা বেতনা নদী হয়ে সাতক্ষীরা শহরের প্রাণসায়ের খালের সঙ্গে মিশেছে। ১৯৬০ সালের দিকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার নারানজোল নামক স্থানে মজুমদার খালে একটি স্লুইস গেট নির্মাণের মাধ্যমে বন্ধ করে দেয়া হয় পানির প্রবাহ। এর পরই মূলত মজুমদার খালের ধীরে ধীরে মৃত্যু হয়েছে।

তিনি বলেন, সাতক্ষীরা জেলা শহর ও তার আশপাশের জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা পেতে মজুমদার খাল পুনর্খননের বিকল্প নেই। কিন্তু বর্তমানে দুই পাশ দখল ও দূষণে মজুমদার খালটি অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।

কদমতলা বাজারসংলগ্ন স্থানীয় বাসিন্দা বাবলু হোসেন জানান, একসময় এ মজুমদার খাল দিয়ে পণ্যবোঝাই বড় বড় নৌকা আসত কদমতলা বাজারে। ব্যবসায়ীদের পণ্য পরিবহনে নৌপথের অন্যতম মাধ্যম ছিল মজুমদার খাল।

স্থানীয় লাবসা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল আলীম জানান, বর্তমানে মজুমদার খাল লাবসা ও আগড়দাড়ী ইউনিয়নবাসীর গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি পুনর্খনন করা হলে দুটি ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা পাবে। শুধু তাই নয়, মজুমদার খাল খনন করা হলে সাতক্ষীরা শহরবাসীও জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবেন বলে তিনি জানান।

সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড ডিভিশন-১-এর উপবিভাগীয় সহকারী প্রকৌশলী দীপঙ্কর কুমার দাশ জানান, মজুমদার খালসহ সাতক্ষীরার ২৫টি বন্ধ খাল পুনর্খননের জন্য একটি প্রকল্প পাঠানো হয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে, যা ৬৪টি জেলার অভ্যন্তরীণ ছোট নদী, খাল ও জলশায় পুনর্খনন প্রকল্পের অধীনে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তবে খালের দুই পাশ দখলমুক্ত করার এখতিয়ার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নেই।

তিনি আরো জানান, খালের সম্পত্তি দেখভাল করার দায়িত্ব জেলা প্রশাসনের। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে প্রশাসন ব্যবস্থা না নিলে এখানে পানি উন্নয়ন বোর্ড কিছুই করতে পারবে না।

সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ হুমায়ুন কবির জানান, এরই মধ্যে শহরের প্রাণসায়ের খালের দুই পাড়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। এছাড়া শিগগিরই জেলার অন্যান্য খাল ও নদীপাড়ের অবৈধ উচ্ছেদ করা হবে।