সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ড শুধু একটি সহায়তা কর্মসূচি নয়, এটি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক মুক্তির আধুনিক সনদ। ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নত ও বৈষম্যহীন কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করতে এ কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আজ শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে ঢাকার বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (এফডিসি) ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত বাজেটে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির অগ্রাধিকার নিয়ে ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন বলেন, অতীতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ ছিল। বর্তমান সরকারের সময়ে ফ্যামিলি কার্ড প্রদানে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বা দুর্নীতি থাকবে না বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্কোরিংয়ের মাধ্যমে আইবাস পদ্ধতিতে প্রকৃত সুবিধাভোগী নির্বাচন করা হচ্ছে। দলমত নির্বিশেষে যাদের প্রয়োজন, শুধু তাদেরই এ সুবিধা দেয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, বিএনপি সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম একটি ফ্ল্যাগশিপ কর্মসূচি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির কারণে ঋণের বোঝা বাড়ার কোনো শঙ্কা নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি দাবি করেন, পূর্ববর্তী সরকার পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দেশকে পরনির্ভরশীল করেছে এবং মেগা প্রকল্পে সময় ও ব্যয় বাড়িয়ে দুর্নীতি হয়েছে। বর্তমান সরকারের প্রধান অপ্রয়োজনীয় মেগা প্রকল্পের পরিবর্তে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে তিনি জানান।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে এবারের বাজেটে সর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এটি সরকারের একটি সাহসী উদ্যোগ বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, সুবিধাভোগী নির্বাচন ও অর্থায়ন নিয়ে কিছু উদ্বেগ থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক প্রভাব বা দুর্নীতির তথ্য প্রকাশ হয়নি। সরকারের সদিচ্ছা থাকলে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন সম্ভব।

হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ আরো বলেন, শুধু সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করলেই জীবনমান উন্নয়ন সম্ভব নয়। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান, যোগাযোগ, আবাসন ও কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে হবে। তাদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে সহজ শর্তে ঋণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ছায়া সংসদ বিতর্কে উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের দলকে পরাজিত করে সরকারি তিতুমীর কলেজের বিতার্কিকরা বিজয়ী হয়।

বিচারক হিসেবে ছিলেন অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, সাংবাদিক তৌহিদুল ইসলাম, সাংবাদিক আশরাফুল ইসলাম এবং সাংবাদিক আতিকুর রহমান।

অনুষ্ঠান শেষে প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র দেন।