প্রতিটি উপজেলা থেকে ১০ জন করে সম্ভাবনাময় তরুণ-তরুণীদের খুঁজে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ ও অনুদান দিয়ে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। আজ রোববার এ-সংক্রান্ত নীতিমালা প্রকাশ করা হয়েছে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, আগামী ১৫ অক্টোবর আবেদন শেষ তারিখ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ২৮ বছর বয়সী প্রাপ্তবয়স্ক যেকোনো বাংলাদেশী নাগরিক এ ঋণ ও অনুদানের জন্য আবেদন করতে পারবেন। যেকোনো স্থানীয় ব্যাংক শাখায় আবেদন জমা দেয়া যাবে। তবে উদ্যোক্তাকে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। বিদ্যমান ব্যবসার পাশাপাশি নতুন ব্যবসায়িক ধারণাও এ কর্মসূচীর আওতায় সমপ্রাধান্য পাবে। বিশেষ করে কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হস্তশিল্প, মৎস্য, পশুপালন, পর্যটন, সেবা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, হালকা প্রকৌশল এবং প্রযুক্তিভিত্তিক স্টার্ট-আপসহ দেশের প্রচলিত আইনে বৈধ সকল ব্যবসাকে এ প্রকল্পের অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। সরকারি-আধাসরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মী, যেকোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণখেলাপি ব্যক্তি এবং আগে ব্যাংক ঋণ নেয়া উদ্যোক্তারা এ সুযোগ পাবেন না।

নীতিমালা অনুযায়ী, কর্মসূচিটি বাস্তবায়নে দেশের তফসিলি ব্যাংকগুলো মাঠ পর্যায়ে মূল ভূমিকা পালন করবে। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিটি উপজেলায় একটি করে ‘‌লিড ব্যাংক’ মনোনীত করবে, যারা শাখা পর্যায়ের সব কার্যক্রম ও জেলাভিত্তিক যোগাযোগ সমন্বয় করবে। আবেদন বাছাই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক ছাড়াও সফল উদ্যোক্তা, ব্যাংক প্রতিনিধি, খাতভিত্তিক বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদদের সম্পৃক্ত করে একটি নিরপেক্ষ কমিটি তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

অর্থায়নের পাশাপাশি এ কর্মসূচির আওতায় তরুণদের ব্যবসায়িক সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ জোর দেয়া হয়েছে। প্রতিটি আবেদনকারীকে আর্থিক স্বাক্ষরতা কর্মসূচির আওতায় আনা হবে এবং নির্বাচিতদের জন্য থাকবে ব্যবসায় প্রশিক্ষণ, মেন্টরিং, ট্রেড লাইসেন্স ও টিআইএন প্রাপ্তিতে সহায়তা এবং বাজার সংযোগের সুবিধা। কোনো পর্যায়ে তদবির বা অসত্য তথ্য প্রদান করা হলে আবেদনকারীর প্রার্থিতা সরাসরি বাতিল এবং তাকে কালো তালিকাভুক্ত করা হবে বলে নীতিমালায় সতর্ক করা হয়েছে।

এর আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর ‘উদ্যোগ: উপজেলাভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, চিহ্নিতকরণ ও অর্থায়ন কর্মসূচি’ নামে এ উদ্যোগের ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এ উদ্যোগের প্রথম পর্যায়ে ৬৪টি উপজেলায় ৬৪০ তরুণ উদ্যোক্তাকে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা করে অর্থায়নের কথা বলা হয়। এ অর্থায়নের অর্ধেক থাকবে ব্যাংক ঋণ, বাকি অর্ধেক অনুদান। গ্রাহক পর্যায়ে এ ঋণের সুদহার হবে ৪ থেকে ৭ শতাংশ। এজন্য উদ্যোক্তাকে কোনো ধরনের জামানত দিতে হবে না।

তবে নির্ধারিত সময়ে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে অনুদানের অংশ সুদবিহীন ঋণে রূপান্তরিত হবে। এ ক্ষেত্রে গ্রাহক প্রচলিত নিয়মে খেলাপি হিসেবে বিবেচিত হবেন এবং ভবিষ্যতে ঋণ পাওয়ার যোগ্যতা হারাবেন।

প্রাথমিকভাবে দেশের আটটি বিভাগের আট নির্বাচিত জেলার ৬৪টি উপজেলায় এ কার্যক্রম শুরু হবে। জেলাগুলো হলো মানিকগঞ্জ, ফেনী, নওগাঁ, ঝিনাইদহ, ভোলা, হবিগঞ্জ, রংপুর ও নেত্রকোণা।