বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরতে চীনের বেইজিংয়ে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), চীনে বাংলাদেশ দূতাবাস ও চায়না কাউন্সিল ফর দ্য প্রোমোশন অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডের (সিসিপিআইটি) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ সেমিনারে দুদেশের সরকারি প্রতিনিধি ও শীর্ষস্থানীয় বিনিয়োগকারীরা অংশ নেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার রাষ্ট্রীয় সফরের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন। বেইজিংয়ের দিয়াওইউতাইয়ে স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টায় শুরু হওয়া সেমিনারে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে কৌশলগত বিনিয়োগ সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ও সুশাসনভিত্তিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং ব্যবসা ও বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। তিনি চীনা কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে উৎপাদন ও ভ্যালু চেইন সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।
তিনি চীনা বিনিয়োগকারীদের সহায়তায় কয়েকটি উদ্যোগের ঘোষণাও দেন। এর মধ্যে রয়েছে চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল, চীনে বিডার বিদেশী বিনিয়োগ অফিস, বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষায়িত চায়না রিলেশনশিপ ডেস্ক এবং চীনা ভাষাভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘চায়না ইনভেস্টমেন্ট গেটওয়ে’।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, সরকার বাংলাদেশকে উচ্চ আয়ের, রফতানিমুখী, শিল্পায়িত ও উদ্ভাবননির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিসিপিআইটির চেয়ারম্যান রেন হংবিন বলেন, চীন টানা ১৬ বছর ধরে বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার এবং বর্তমানে দ্বিতীয় বৃহত্তম বিনিয়োগ উৎস। তিনি জানান, বাংলাদেশে প্রায় ৭০০টি চীনা অর্থায়নে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান নিবন্ধিত রয়েছে।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। তিনি টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক, কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাতকরণ, ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি, ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবা, অটোমোটিভ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরেন।
এদিকে সেমিনারে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি ও বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করা হয়। বাগেরহাটের মোংলা বন্দরের পাশে চীন–বাংলাদেশ মোংলা পোর্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়নে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর হয়। এছাড়া চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল গড়ে তুলতে চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিসিইসিসি) সঙ্গে একটি চুক্তি সই হয়।
বাংলাদেশে বিনিয়োগ প্রচার ও ব্যবসায়িক সংযোগ বাড়াতে বিডা ও সিসিপিআইটির মধ্যেও একটি সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
এছাড়া কেরানীগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চলে হান্ডা ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের অনুকূলে জমির প্রভিশনাল বরাদ্দ সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি সেখানে ২২ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগে নতুন কারখানা স্থাপন করবে। এতে প্রায় ১৩ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর আগে প্রতিষ্ঠানটি চট্টগ্রামের মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে ১০ কোটি ডলার বিনিয়োগে একটি কারখানা স্থাপন করেছে।
সফরের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী কেএমকে গ্রুপ, হান্ডা ইন্ডাস্ট্রিজসহ বিভিন্ন চীনা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন এবং ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ ও সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন।










