দেশের প্রতিটি জেলা ও মহানগরে বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত থাকলেও এর কার্যক্রম সম্পর্কে তেমন কোনো প্রচারণা নেই। এ আদালতে দায়ের হওয়া মামলার অর্থদণ্ড থেকে সংশ্লিষ্ট অভিযোগকারী ২৫ শতাংশ প্রণোদনা পেয়ে থাকেন সেটিও অনেকেই জানেন না। এছাড়া ২০১৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত মাত্র ১৩০টি মামলা দায়ের করা হয় এ আদালতে।
নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ সূত্রে পাওয়া মামলার এ পরিসংখ্যান সেটিই ইঙ্গিত করে। তারমধ্যে নিষ্পত্তি করা হয়েছে ৪১টি এবং চলমান রয়েছে ৮৯টি মামলা।
২০১৫ সালের ২ জুলাই আইন ও বিচার বিভাগের (বিচার শাখা-৪) এক প্রজ্ঞাপনে প্রতিটি জেলার ১ নম্বর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত (প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট আদালত), ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার জন্য ১৯ নম্বর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকার জন্য ৪ নম্বর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, রাজশাহী মেট্রোপলিটন এলাকার জন্য ২ নম্বর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, খুলনা মেট্রোপলিটন এলাকার জন্য ২ নম্বর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, সিলেট মেট্রোপলিটন এলাকার জন্য ৩ নম্বর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এবং বরিশাল মেট্রোপলিটন এলাকার জন্য ১ নম্বর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতকে বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত হিসাবে নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া প্রতিটি জেলা এবং মেট্রোপলিটন এলাকাকে সংশ্লিষ্ট বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের অধিক্ষেত্র নির্ধারণ করা হয়।
এ বিষয়ে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জাকারিয়া বণিক বার্তাকে বলেন, ‘পরে ঢাকা মেট্রো-তে ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর দুটি ভাগ হয়েছে। রংপুরে মেট্রো আদালত হয়েছে। রংপুর মেট্রো আদালত স্থাপনের জন্য প্রস্তাব আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ময়মনসিংহ বিভাগে মেট্রো আদালত এখনো গঠিত হয়নি। গঠিত হলে প্রস্তাব পাঠানো হবে।’ এখন পর্যন্ত সব মিলিয়ে ৭১টি বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত গঠন হয়েছে বলে তিনি জানান।
২০১৩ সালের ১০ অক্টোবর প্রণীত হয় ‘নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩’। এ আইনের অধীনে ২০১৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়।
নিরাপদ খাদ্য আইনের নবম অধ্যায়ের ৬২ ধারা অনুসারে কোন মামলায় খাদ্য আদালত কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করে কোন অর্থদণ্ড আরোপ করলে ওই অর্থের ২৫ শতাংশ অর্থ প্রণোদনা হিসাবে সংশ্লিষ্ট অভিযোগকারী পাবেন। তবে, অভিযোগকারী কর্তৃপক্ষের কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী হলে, তিনি ওই প্রণোদনা পাবেন না।
আইনটির দশম অধ্যায়ে বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত (খাদ্য আদালত, অভিযোগ, বিচার, ইত্যাদি) বিষয়ে ১২টি ধারা যুক্ত করা হয়। এ অধ্যায়ের ৬৬ ধারা অনুসারে খাদ্য ক্রেতা ও ভোক্তারা তাদের যেকোনো অভিযোগ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান অথবা তার কাছ থেকে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে লিখিতভাবে জানাতে পারবেন। পরে তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিক তদন্তের পরে অপরাধ পেলে খাদ্য আদালত মামলা করবেন। স্যানিটারি ইন্সপেক্টররা নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শকের দায়িত্ব পালন করছেন। তারাই নিরাপদ খাদ্য আইনের মামলার বাদী হন।
নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতে ২০১৭ সালে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়। তারমধ্যে দুটি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। ২০১৮ সালের একটি মামলা দায়ের করা হয়। সেটি চলমান রয়েছে। ২০১৯ সালে ২৬টি মামলার সাতটি নিষ্পত্তি করা হয়, চলমান রয়েছে ১৯টি।২০২০ সালে ১১টি মামলার তিনটি নিষ্পত্তি করা হয়, চলমান রয়েছে আটটি।২০২১ সালে ১১টি মামলার মধ্যে আটটি নিষ্পত্তি করা হয়, চলমান রয়েছে তিনটি। ২০২২ সালে ২৮টি মামলা দায়ের করা হয়। ১৫টি নিষ্পত্তির পর চলমান রয়েছে ১৩টি। ২০২৩ সালে ২৮টি মামলার মধ্যে মাত্র ছয়টি নিষ্পত্তি করা হয়, চলমান রয়েছে ২২টি। ২০২৪ সালে ২২টি মামলা দায়ের করা হয়। একটিও নিষ্পত্তি হয়নি। সব মিলিয়ে ১৩০টি মামলা দায়ের করা হয়। নিষ্পত্তি করা হয় ৪১টি এবং চলমান রয়েছে ৮৯টি মামলা।
এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জাকারিয়া বণিক বার্তাকে বলেন, ‘যে কেউ অভিযোগ দিতে পারেন। সেটি তদন্ত করে প্রমাণ পেলে মামলা দায়ের করা হয়। স্যানিটারি ইন্সপেক্টরদেরকে নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শকের ক্ষমতা অর্পণ করা হয়েছে। নিরাপদ খাদ্য আইনের অধীন তারা পরিদর্শন করে থাকেন এবং এ আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধের বিরুদ্ধে বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতে মামলা দায়ের করে থাকেন।’
বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতে দায়ের হওয়া মামলার পরিসংখ্যানের বিষয়ে সরকারের এ অতিরিক্ত সচিব বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের তথ্য সংগ্রহ পর্যায়ে রয়েছে। সকল জেলা থেকে তথ্য সংগ্রহ করে যাচাই করা হচ্ছে। যাচাই শেষে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হবে।’










