বগুড়ায় বন্যায় অবকাঠামোসহ ১০ লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে। বগুড়া জেলা মৎস্য অফিস বলছে, বন্যায় তিনটি উপজেলার ৭৮টি পুকুরের ক্ষতি হয়েছে।

জানা যায়, জেলার সারিয়াকান্দি, ধুনট ও সোনাতলা উপজেলার মধ্য দিয়ে যমুনা নদী এবং শেরপুর উপজেলার মধ্য দিয়ে বাঙালি ও করতোয়া নদী বয়ে গিয়েছে। জুনের শুরু থেকেই যমুনা ও বাঙালি নদীর পানি বাড়তে থাকে। যমুনা নদীতে পানি বাড়লে যমুনার শাখা বাঙালি নদীতেও পানি বেড়ে যায়। দুটি নদীই ভাঙনপ্রকৃতির। চলতি বছরের জুনে নদী দুটিতে পানি বেড়ে প্রথমে তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল তলিয়ে যায়। এরপর গত ১৭ জুন যমুনা নদীর পানি বিপত্সীমা অতিক্রম করে। পর্যায়ক্রমে ২১ জুন যমুনা নদীর পানি বিপত্সীমার সর্বোচ্চ ৬৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এতে করে বন্যা সৃষ্টি হয়ে ৮৪টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। প্রায় দেড় লাখ মানুষ বন্যার শিকার হন। ২২ জুুন থেকে বন্যার পানি কমতে থাকে। কয়েকদিন পানি কমে ২৮ জুন পর্যন্ত যমুনার পানি বিপত্সীমার ৭৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। এ কদিনের বন্যায় জেলার সারিয়াকান্দি, ধুনট, সোনাতলা উপজেলায় মাছের খামারের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়া সব পুকুরেই বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষ করা হতো।

বগুড়া জেলা মৎস্য অফিসের কর্মকর্তারা বলছেন, জেলায় প্রায় ৬০ হাজারের মতো পুকুর রয়েছে। মাছচাষী রয়েছেন প্রায় ২৬ হাজার। প্রায় অর্ধশত প্রজাতির বিভিন্ন মাছ চাষ হতো পুকুরগুলোয়। এর মধ্যে কয়েকটি পুকুরে ডিম ফোটানো হতো।

বন্যায়  সারিয়াকান্দি, সোনাতলা, ধুনট উপজেলা মিলিয়ে ৭৮টি পুকুরের ৮০ জন চাষীর প্রায় সাড়ে ১০ লাখ টাকার মাছ ভেসে গিয়েছে। এর মধ্যে সারিয়াকান্দি উপজেলায় ৬৬টি, সোনাতলা উপজেলায় সাতটি ও ধুনট উপজেলায় পাঁচটি পুকুরের মাছ ভেসে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত চাষীরা বলছেন, সরকারিভাবে কোনো অনুদান বা সহযোগিতা পাওয়া গেলে নতুন করে মাছ চাষ করা যেত। কোনো কোনো উপজেলায় পুকুরের পাড় ভেঙে গেছে। মাছের জন্য রাখা খাবারও ভেসে গেছে। অবকাঠামো মেরামত করে মাছ চাষে ফিরতে গেলে যে পুঁজির দরকার, তা তাদের এখন সংগ্রহ করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।