ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কোটার যৌক্তিক সংস্কার দাবির কর্মসূচি পুরোপুরিভাবে পালন করতে পারেননি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। ছাত্রলীগের বাধার মুখে কয়েক মিনিটের মধ্যেই সংক্ষিপ্তভাবে কর্মসূচি শেষ করতে হয়েছে বলে দাবি তাদের। বুধবার (১৭ জুলাই) ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের সামনে উভয় পক্ষ অবস্থান নিলে কিছুটা উত্তেজনা দেখা দেয়। তবে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

এ সময় ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কোটা সংস্কারের পক্ষে তারাও। কিন্তু জামায়াত-বিএনপি এটাকে ইস্যু করে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে।

জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ‘আমরাও চাই কোটার যৌক্তিক সংস্কার হোক। কিন্তু চলমান আন্দোলনকে ভিন্ন দিকে নেয়ার চেষ্টা চলছে। জামায়াত ও বিএনপির লোকজন আন্দোলনকে রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত করেছে। তারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যারা কোটার যৌক্তিক সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করছেন, তাদের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। সুন্দরভাবে কর্মসূচি পালন করতে পারলে আমাদের কোনো আপত্তি নেই বলে তাদের জানিয়েছি। কিন্তু আমাদর কাছে তথ্য আছে, ছাত্রদল, জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীরা তাদের কর্মসূচির সঙ্গে সহমত পোষণ করেছে এবং একটি নির্দিষ্ট স্থানে জড়ো হয়ে বিশঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করবে।’

এদিকে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের সামনে জড়ো হতে থাকেন। কোটার যৌক্তিক সংস্কার দাবির কর্মসূচি হিসেবে প্রেস ক্লাবের সামনে তাদের অবস্থান কর্মসূচি, প্রচারপত্র বিতরণ ও আলোচনা করার কথা ছিল। কিন্তু বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্যদের পাশাপাশি জেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাও এ সময় প্রেস ক্লাবের সামনে জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি রবিউল হোসেন, সহসভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের উপদপ্তর সম্পাদক সুজন দত্ত, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাদাৎ হোসেনসহ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের জটলা বাড়তে থাকে। প্রেস ক্লাবের সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্যদের সঙ্গে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ১৫-২০ মিনিট আলোচনা হয়। কোটার যৌক্তিক সংস্কার দাবির কর্মসূচি পালনকে কেন্দ্র করে কোনো অঘটনা বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে এর দায়ভার কে নেবে বিষয়টি নিয়ে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্যদের জানানো হয়। একপর্যায়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্যরা কর্মসূচি থেকে পিছু হটেন।

পরে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতেই ‘মুক্তিযুদ্ধের বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই’ স্লোগান দেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সদস্যরা। সেখানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কারী সানিউর রহমান।

তিনি বলেন, ‘সরকারের যে কোটা আছে, আমরা সেটির যৌক্তিক সংস্কার চাই। চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য ষড়যন্ত্র চলছে। আমাদের আন্দোলনকে ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করতে চাইছে। সারা দেশে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অন্যায়ভাবে অত্যাচার ও নিপীড়ন করা হচ্ছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। আমরা চাই উচ্চ আদালতের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান হোক। আমরা থাকব পড়ার টেবিলে ও বিশ্ববিদ্যালয়ে। কিন্তু এখন আমাদের থাকতে হচ্ছে রাজপথে। সরকারের কাছে দাবি, চলমান সমস্যার সমাধান হোক এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর যেন কোনো হামলা না হয়।’ সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো প্রত্যাহারসহ হামলার সুষ্ঠু তদন্তের দাবিও জানান তারা।