দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের প্রশস্তকরণ কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল চলতি মাসে। মেয়াদ শেষ হলেও এই কাজের মাত্র ৬০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। ১৮ মাসেও কাজ শেষ না হওয়ায় ঘোড়াঘাট ও আশপাশের বেশ কয়েকটি উপজেলার হাজারো মানুষ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। এছাড়া কাজ চলমান থাকায় ধুলাবালিতে ধূসরিত হয়ে থাকে এ সড়ক। এতে বিপাকে পড়ছে স্থানীয়রা। মাত্রাতিরিক্ত ধুলায় শ্বাসজনিত নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে স্থানীয়দের মাঝে। দ্রুত সড়কের কাজ সম্পন্ন করে দুর্ভোগ লাঘবের দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগীরা।

রাজধানী ঢাকা থেকে দিনাজপুরের ১৩টি উপজেলায় যাতায়াতের একমাত্র পথ দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক। পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলের আরো দুটি জেলা পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁওকেও সংযুক্ত করেছে সড়কটি।

২০১৯ সালে ৮৮৩ কোটি টাকা বরাদ্দে নয়টি গুচ্ছ প্যাকেজের মাধ্যমে এ সড়কের প্রশস্তকরণ কাজ শুরু হয়। এর মাধ্যমে ৫ দশমিক ৫ মিটার প্রস্থের সড়কটি ৯ দশমিক ৭ মিটার করার কথা রয়েছে। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রাথমিক পর্যায়ে এ সড়কে থাকা প্রায় শতাধিক ছোট ও পুরনো কালভার্ট নতুন করে নির্মাণকাজ শুরু করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। চুক্তি অনুযায়ী চলতি মাসেই কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে এখন পর্যন্ত কাজ শেষ হয়েছে মাত্র ৬০ ভাগ।

সড়ক দিয়ে চলাচলকারী মোটরসাইকেলচালক বিদ্যুৎ হোসেন বলেন, ব্যবসার কাজে আমাকে প্রতিদিন নবাবগঞ্জের ভাদুড়িয়া হয়ে ঘোড়াঘাট পর্যন্ত যেতে হয়। কিন্তু সড়কের সংস্কারকাজ চলার কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সড়কের কাজ কিছু হওয়ায় সেখান দিয়ে চলাচল করা যাচ্ছে, কিন্তু বাকি এলাকা দিয়ে চলাচল করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। প্রথমত সড়কের অবস্থা খারাপ পাশাপাশি যানবাহন চললে সড়ক দিয়ে প্রচণ্ড ধুলা ওড়ে। এত বেশি পরিমাণ ধুলা উড়ে যে গাড়ি চালানোর সময় সামনে কিছু দেখা যায় না। সড়কে পানি দেয়ার কথা থাকলেও ঠিকমতো তা দেয়া হচ্ছে না।

সড়কের রানীগঞ্জ বাজারের দোকানি রহিম হোসেন বলেন, সড়কের পাশেই আমার দোকান। কিন্তু এখন সড়কের কাজ চলার কারণে প্রচুর যে পরিমাণ ধুলা ওড়ে। এতে দোকানে বসে থাকা সম্ভব হয় না। দোকানের সব মালপত্র ধুলা পড়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কবে আমরা এ থেকে মুক্তি পাব তার কোনো ঠিক নেই।

শুধু রহিমের দোকান নয় সড়কের পাশের বাড়িঘরগুলোরও একই অবস্থা। সড়কে সৃষ্ট ধুলা এসব বাড়িঘরে বসবাসরতরা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছে না। শিশু ও বয়স্করাসহ বাড়ির বাসিন্দারা ধুলায় অসুস্থ হয়ে পড়ছে। বাড়ছে শ্বাসজনিত রোগ। অতিরিক্ত ধুলা ঘরে ঢুকে নোংরা হচ্ছে আসবাবপত্র, নষ্ট হচ্ছে খাবার।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএম বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্সের প্রজেক্ট ম্যানেজার আনিসুর রহমান বলেন, চুক্তি অনুযায়ী এ মাসে আমাদের কাজ শেষ হওয়ার কথা। তবে আমরা আরো আগেই সড়ক উন্নয়নের কাজ শেষ করতাম। কিন্তু করোনার প্রথম যে স্টেজ গিয়েছে, সেই সময়েও আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিয়মিত কাজ করে গেছি। যাতে জনগণকে দীর্ঘ সময় ভোগান্তি পোহাতে না হয়। তবে ফান্ডিং জটিলতার কারণে আমরা কিছুদিন কাজ বন্ধ রেখেছি এবং ধীরগতিতে কাজ করেছি। সংশ্লিষ্ট দপ্তর যদি যথাসময়ে আমাদের অর্থ দিত, তবে অনেক আগেই আমরা কাজ শেষ করতে পারতাম।

তিনি আরো বলেন, ধুলার হাত থেকে সাধারণ মানুষকে যথাসম্ভব রেহাই দিতে আমরা প্রতিদিন বেশ কয়েকবার রাস্তায় পানি দিচ্ছি। ফলে প্রতিনিয়ত আমাদেরও ব্যয় বাড়ছে। আজকালের মধ্যে আমাদের ফান্ড দেয়ার কথা আছে। সময়মতো ফান্ড দিলে আগামী জুনের ভেতরে রাস্তার ৯০ ভাগ কাজ শেষ করতে পারব।

দিনাজপুর সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীতি চাকমা বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে স্বাভাবিক সব কাজই বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ফলে আমাদের ফান্ডিং জটিলতা তৈরি হয়েছিল। আগামী দু-তিনদিনের মধ্যে আমাদের এ সমস্যার সমাধান হবে। আমরা আশা করছি আগামী মে মাসের মধ্যে সড়কের প্রথম লেয়ারের কাজ শেষ করতে পারব। বাকি একটি লেয়ার জুন-জুলাইয়ের বর্ষাকাল শেষ হলে করা সম্ভব হবে।