দেশে নগদ লেনদেন কমাতে ‘বাংলা কিউআর’ জনপ্রিয় করতে চায় বাংলাদেশ ব্যাংক। এটি বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রকৃত অর্থনৈতিক কার্যক্রম নিরূপণ করা সহজ হবে বলে মনে করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মো. হাবিবুর রহমান। তিনি বলেছেন, বাংলা কিউআর চালু হলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেন আরো সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ হবে। খুচরা টাকার সংকট কিংবা অতিরিক্ত অর্থ ফেরত নেয়ার ঝামেলাও থাকবে না। এর ফলে ডিজিটাল মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়া প্রতিটি লেনদেনের তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। এতে অর্থনীতির অনানুষ্ঠানিক খাতের অনেক কর্মকাণ্ডও আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থার আওতায় আসবে, যা দেশের প্রকৃত অর্থনৈতিক কার্যক্রম নিরূপণে সহায়ক হবে।
আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় প্রাঙ্গণে বাংলা কিউআরে লেনদেনে উদ্বুদ্ধকরণে বিশেষ ক্যাম্পেইন পরিচালিত হয়। এতে সহযোগিতা করে ডাচ বাংলা ব্যাংক পিএলসি। সকাল ১১টায় ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন ডেপুটি গভর্নর নূরুন নাহার। এ সময় আরো ছিলেন ডেপুটি গভর্নর মো. জাকির হোসেন চৌধুরী ও ড. মো. কবির আহাম্মদ, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন, ডাচ বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. এহতেশামুল হক খান এবং সিটি ব্যাংক পিএলসির এমডি ও সিইও মাসরুর আরেফিন প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে পথের বিক্রেতারাও সহজে বাংলা কিউআরের আওতায় আসতে পারবেন। এজন্য সব ব্যাংক ও মোবাইল ভিত্তিক আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানকে (এমএফএস) তাদের নিজস্ব অ্যাপে বাংলা কিউআর সংযুক্ত করতে হবে।
আরেক ডেপুটি গভর্নর মো. কবির আহাম্মদ বলেন, বাংলা কিউআর দেশের ডিজিটাল পেমেন্ট অবকাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। সব ধরনের লেনদেন ডিজিটাল মাধ্যমে সম্পন্ন হলে সরকারের কর আহরণ সক্ষমতা বাড়বে এবং কর জিডিপি অনুপাত উন্নত হবে।
আগামী বছর দেশে একটি ইন্টারঅপারেবল ইনস্ট্যান্ট পেমেন্ট সিস্টেম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান কবির আহাম্মদ। এতে ডিজিটাল লেনদেন অবকাঠামো আরো সমন্বিত ও কার্যকর হবে বলে মনে করেন তিনি।
ক্যাম্পেইনে ভোক্তা পণ্য (এফএমজি) খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অস্থায়ী বিপণন কেন্দ্র স্থাপন করা হয়। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ছিল ইউনিলিভার বাংলাদেশ, এসিআই লজিস্টিকস লিমিটেড (স্বপ্ন), ইউনিমার্ট, সেভয় আইসক্রিম, আরএফএল গ্রুপ এবং আরলা ফুডস বাংলাদেশ লিমিটেড। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব স্টলে বাংলাক কিউআর ব্যবহার করে লেনদেন করেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ব্যাংকিং খাতের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাংলা কিউআর ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করবে। একই সঙ্গে দেশব্যাপী বাংলা কিউআরের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ গড়ে তোলার উদ্যোগে এ ধরনের ক্যাম্পেইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।










