রাঙ্গামাটির রাজস্থলীতে এক ছাত্রলীগ নেতাকে
‘অপহরণের’ ঘটনায় উদ্ধারের দাবিতে উপজেলার তিনটি সড়কে ৩৬ ঘন্টার সড়ক অবরোধ পালিত হয়েছে।
গতকাল (২০ ডিসেম্বর) মঙ্গলবার ভোর ৬টা থেকে শুরু হওয়া কর্মসূচি শেষ হয় আজ সন্ধ্যায়।
অবরোধের কারণে মঙ্গলবার ভোর থেকে রাজস্থলী-বান্দরবান,
বাঙ্গালহালিয়া-রাজস্থলী ও বাঙ্গালহালিয়া-রাঙ্গামাটি সড়কে সকল ধরনের যাত্রীবাহী যানবাহন
চলাচল বন্ধ থাকে। পরপর দুদিন দুর্ভোগে পড়েন এ সড়কে যাতায়াতকারীরা। বান্দরবান থেকে অনেকেই
চট্টগ্রাম হয়ে রাঙ্গামাটিতে ফিরেছেন।
স্থানীয়ভাবে জানা গিয়েছে, গতকাল সকাল ৬টা
থেকে রাজস্থলী উপজেলাধীন রাজস্থলী-রাঙ্গামাটি-বান্দরবান সড়কে সকল প্রকার যাত্রীবাহী
যানচলাচল বন্ধ ছিল। এদিন বাঙ্গালহালিয়া বাজারে সাপ্তাহিক হাটবার থাকলেও সাধারণ
মানুষের উপস্থিতি তুলনামূলক কম দেখা গিয়েছে। আজ রাজস্থলী উপজেলা সদরে হাটবার থাকলেও
মানুষের তেমন উপস্থিতি মেলেনি। গাইন্দ্যা ও ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের মানুষজন পায়ে হেঁটে বাজারে
এসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয় করেছেন।
অবরোধে সমর্থনকারীরা উপজেলার বাসস্টেশন, রাজস্থলী
বাজার, বরইতলা, ইসলামপুর বাজার, মুক্তিযোদ্ধা সড়ক, পাথরবন পাড়া, শফিপুর, বাঙ্গালহালিয়া
বাজারসহ বিভিন্নস্থানে পিকেটিং করেছে। অবরোধের কারণে কোথাও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার
খবর পাওয়া যায়নি।
বাঙ্গালহালিয়া সচেতন নাগরিক সমাজের সভাপতি
এমদাদুল হক মিলন জানান, সালাহ উদ্দিনকে উদ্ধারের দাবিতে মঙ্গলবার-বুধবার ৩৬ ঘন্টার
অবরোধ পালিত হয়েছে। অপহরণের ১৬ দিন অতিবাহিত হলেও এখনো সালাহ উদ্দিনের কোনো সন্ধান
মেলেনি। নিখোঁজ ব্যক্তি উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে এবং প্রয়োজনে
আরো কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে।
রাজস্থলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)
জাকির হোসেন জানান, নিখোঁজ সালাহ উদ্দিনকে উদ্ধারের বিষয়টি পুলিশ সুপারের নির্দেশ মোতাবেক
সকল প্রকার কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে।
গত ৪ ডিসেম্বর সকালে রাজস্থলী উপজেলার ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের আমতলীপাড়া নামক এলাকা থেকে মো. সালাহ উদ্দিন নামে এই ছাত্রলীগ নেতাকে অপহরণ করা হয়েছে দাবি করা হচ্ছে। এ ঘটনায় সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) দায়ী করে আসছে পরিবার। ঘটনার পরদিন রাজস্থলী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন সালাহ উদ্দিনের বড় ভাই মো. আল আমিন হোসেন।










