ইরান-সমর্থিত
লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক হামলা অনুমোদন করেছে ইসরায়েলের
নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা। গত শনিবার ইসরায়েলের অধিকৃত গোলান মালভূমিতে হামলায় হিজবুল্লাহকে
দায়ী করেছিলেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এবার নেতানিয়াহু এবং
প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টকে শনিবারের ঘটনার সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে
সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য ক্ষমতা দিয়েছে দেশটির নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা। খবর ওয়ালস্ট্রিট
জার্নাল।
জানা
গেছে, জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ভোট থেকে বিরত ছিলেন।
গত অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরুর পর থেকেই ইসরায়েলের সঙ্গে লেবানন
সীমান্তে গুলি বিনিময় করছে আইডিএফ ও হিজবুল্লাহ। তবে গত শনিবার ইসরায়েল অধিকৃত
গোলান মালভূমির এক ফুটবল মাঠে রকেট হামলায় ১২ জন নিহত হয়েছেন। তাদের সবাই শিশু এবং
কিশোর। এছাড়া আরো কয়েক ডজন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছিল ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। এই হামলার
জন্য ইরান-সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে দায়ী করেছে। আর এ হামলাই
ইসরায়েলের সাথে লেবাননের পূর্ণ মাত্রার যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে। রকেট হামলাটি ছিল ইসরায়েলের উত্তর সীমান্তে সবচেয়ে মারাত্মক প্রাণহানির
ঘটনা।
তবে হিজবুল্লাহ এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। হিজবুল্লাহর মুখপাত্র মোহাম্মাদ আফিফ হামলার দায় অস্বীকার করে বলেন,
এই হামলায় তারা জড়িত নন।
তবে তাতে যুদ্ধের আশঙ্কা দূর হচ্ছে না। লেবাননের
সঙ্গে ইসরায়েলের সীমানা থেকে ৫০ কিলোমিটারেরও (৩০ মাইল) কম দূরে অবস্থিত হাইফা বিশ্ববিদ্যালয়
কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দিয়েছে যে, তাদের কর্মীর বাড়িতে বসেই কাজ (ওয়ার্ক ফ্রম হোম) করা উচিত।
হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের পূর্ণ মাত্রার যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা থেকেই এমন ঘোষণা দেয়া
হয়েছে।
গত অক্টোবর
থেকে শুরু হওয়া লেবানন ও হিজবুল্লাহর মধ্যে গুলি বিনিময়ে এ পর্যন্ত লেবাননের ৪৫০ জনেরও
বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলের ২৩ জন বেসামরিক ও ১৭ জন সেনা নিহত হয়েছে
বলে দাবি আইডিএফের। সংঘর্ষগুলো তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রিত ছিল বলে ধারণা করা যায় যে,
উভয় পক্ষই মুখোমুখি সংঘর্ষ বা পূর্ণ মাত্রার যুদ্ধ এড়াতে চাইছে।
তবে প্রশ্ন হচ্ছে, গোলান মালভূমিতে এই রকেট হামলার প্রতিক্রিয়া দেখাতে কতদূর যাবে ইসরায়েল। ইসরায়েলি হামলার আশঙ্কায় লেবাননের দক্ষিণে এবং পূর্বে বেকা উপত্যকার কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো থেকে আগেই মানুষ সরিয়ে নেয়ার সতর্কতা জানিয়েছে হিজবুল্লাহ।










