লবণাক্ততার কারণে বাগেরহাট সদর উপজেলার শশীখালী বিলে একসময় চাষাবাদ বন্ধ ছিল। বিলের প্রায় সাত হাজার একর জমিতে বছরের কিছু সময় শুধু বাগদা চিংড়ির চাষ হতো। সম্প্রতি জমির মালিক, বর্গাচাষী, জনপ্রতিনিধি ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সম্মিলিত উদ্যোগে লবণ পানি মুক্ত হয়েছে বিলটি। চলতি মৌসুমে চাষের আওতায় এসেছে বিলের পাঁচ হাজার একর জমি, যা থেকে প্রায় সাত হাজার টন ধান উৎপাদন হবে বলে প্রত্যাশা কৃষি কর্মকর্তাদের। পাশাপাশি ঘেরের পাড়ে তরমুজ, শিম, শসা, মূলা, কফিসহ বিভিন্ন সবজির ফলনও ভালো হয়েছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, লবণ পানির কারণে বিলে একসময় তারা কোনো ফসলই আবাদ করতে পারতেন না। ষাটগম্বুজ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, মেম্বার, জমির মালিক ও কৃষক মিলে লবণ পানি প্রবেশ বন্ধ করেছেন। বিলে এখন আর লবণ পানি প্রবেশ করে না।
ষাটগম্বুজ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আক্তারুজ্জামান বাচ্চু বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে কৃষিজ উৎপাদন নানাভাবে ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় কৃষক ও জমির মালিকদের সঙ্গে নিয়ে আমরা চেষ্টা করেছি যাতে লবণ পানির প্রবেশ বন্ধ করা যায়। শশীখালীর বিলে আমরা সেটা করতে পেরেছি। ফলে এবার আমন ধানের ভালো ফলন হয়েছে। লবণাক্ততার কারণে যেসব বিল এখনো অনাবাদি রয়েছে সেসব বিলেও এ ধরনের পদ্ধতি অবলম্বন করলে কৃষি উৎপাদন বাড়বে।’
বিলে একসময় শুধু বাগদা চিংড়ির চাষ হতো। সাদা মাছের চাষ করা যেত না লবণের জন্য। এখন বাগদা চিংড়ির পাশাপাশি সাদা মাছ ও গলদা চিংড়ি চাষ করছেন বিলের আশপাশের কৃষক।
এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ষাটগম্বুজ ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাকির হোসাইন খান বলেন, ‘লবণ পানির প্রবেশ বন্ধ করায় এবার শশীখালীর বিলে প্রায় পাঁচ হাজার একর জমিতে আমন ধান চাষ হয়েছে। এতে প্রায় সাত হাজার টন ধান উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিছু কিছু চাষী এরই মধ্যে ধান কাটা শুরু করেছেন। ধানের পাশাপাশি সবজিসহ অন্যান্য ফসল চাষ করছেন কৃষক।’









