চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে সড়ক নির্মাণকাজে পাহাড়ের মাটি ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার বারইয়ারহাট-রামগড় সড়কে ব্রিজ ও কালভার্টের সংযোগ সড়ক নির্মাণে প্রভাবশালীদের দিয়ে পাহাড়ের মাটি সরবরাহ করিয়ে নিচ্ছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিপিসিএল। করেরহাট ইউনিয়নে বন কর্মকর্তার কার্যালয়সংলগ্ন এলাকা ও অলিনগরসহ আশপাশের পাহাড় থেকে ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কাটতেও দেখা গেছে।

করেরহাট এলাকার লক্ষ্মীছড়া ব্রিজ এলাকায় মাটি বুঝিয়ে নেয়া সিপিসিএলের মাঠ প্রকৌশলী জসিম উদ্দীন বলেন, যারা মাটি দেয়ার দায়িত্ব নিয়েছে তারা মাটি কোথা থেকে আনবে সেটা আমাদের জানার বিষয় নয়।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিনহাজুর রহমান জানান, পাহাড় কাটা আইনত দণ্ডনীয়। শিগগিরই এ বিষয়ে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

সংশ্লিট সূত্রে জানা গেছে, ৮৪৫ কোটি ৫৩ লাখ টাকা ব্যয়ে বারইয়ারহাট-রামগড় সড়ক প্রশস্তকরণের প্রকল্প হাতে নেয় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। গত বছরের আগস্টে একনেকের সভায় এ অর্থের অনুমোদন দেয়া হয়। প্রকল্পটিতে বাংলাদেশ সরকার দেবে ২৬৪ কোটি ৩৩ লাখ টাকা এবং ভারত সরকার ঋণ দেবে ৫৮১ কোটি ২০ লাখ টাকা। তবে এখনো সড়ক প্রশস্তকরণের দরপত্র আহ্বান করা হয়নি।

এদিকে জাইকার অর্থায়নে রামগড় থেকে বারইয়ারহাট পর্যন্ত ১৬টি ব্রিজ ও কালভার্টের কাজ পেয়েছে সিপিসিএল। ব্রিজ ছাড়াও ব্রিজের পাশে ২০০-৩০০ মিটার সংযোগ সড়কের কাজ করবে প্রতিষ্ঠানটি।

সরেজমিনে দেখা যায়, ব্রিজের পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণে ব্যবহার করা হচ্ছে পাহাড়ি মাটি। জানা যায়, করেরহাটের একাধিক সিন্ডিকেটকে দিয়ে এ মাটি সংগ্রহ করছে সিপিসিএল। শুধু পাহাড়ি মাটি নয় কৃষি জমির উপরিভাগের মাটিও সড়ক নির্মাণে ব্যবহার করা হচ্ছে। এর আগে উপজেলা প্রশাসন একাধিকবার কৃষি জমির মাটি কাটায় বেশ কয়েকজনকে জরিমানাও করে।

অন্যদিকে নির্দিষ্ট সময়ে ব্রিজ ও সড়কের কাজ শেষ করা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে স্থানীয়রা। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো অনেক স্থানে কাজ শেষ হয়নি।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিপিসিএলের সাইট ম্যানেজার হাবীবুর রহমানের দাবি, করোনার কারণে কাজে ধীরগতি এসেছে। শ্রমিকরা ছুটি নিয়ে বাড়ি যাওয়ার পর করোনার কারণে আসছে না। তাই নির্দিষ্ট সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধিকরণের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হবে বলে তিনি জানান।