দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি ও রফতানি বাণিজ্য আগের তুলনায় কমেছে। এতে বন্দরকেন্দ্রিক কর্মসংস্থান কমেছে। কাজ না থাকায় দিনশেষে অনেকেই খালি হাতে বাড়ি ফিরছেন বলে জানিয়েছেন বন্দরে কর্মরত শ্রমিকরা। লোকসমাগম কমে যাওয়ায় আয় কমেছে বন্দরকেন্দ্রিক গড়ে ওঠা চা-বিস্কুটসহ বিভিন্ন খাবার দোকানের।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, বন্দর দিয়ে কিছুদিন আগেও গড়ে প্রতিদিন ১০০-১৫০টি ট্রাকে বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি হতো। এসব পণ্য নেয়ার জন্য দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সমপরিমাণ বাংলাদেশী ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করত। ফলে বন্দরে যেমন কর্মচাঞ্চল্য থাকত, তেমনি মানুষের সমাগম থাকায় পুরো এলাকা জাঁকজমক থাকত। বর্তমানে বন্দর দিয়ে গড়ে প্রতিদিন ২০-৩০ ট্রাক পণ্য আমদানি হচ্ছে। কাজ কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে কর্মরত শ্রমিকরা। আগে গড়ে প্রতিদিন ৩ হাজার-৩ হাজার ৫০ টন পণ্য আমদানি হলেও এখন তা কমে গড়ে প্রতিদিন ৭০০-৮০০ টনে দাঁড়িয়েছে। আগে বন্দর থেকে গড়ে প্রতিদিন ২-২ কোটি ৫০ লাখ টাকার রাজস্ব আহরণ হলেও বর্তমানে তা কমে ৫০-৬০ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য কার্যত শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। আগে যেখানে বন্দরে প্রতিদিন ২০০-৩০০ পণ্যবাহী ট্রাক খালাসের অপেক্ষায় থাকত। এখন তা কমে ২৫-৩০ ট্রাকে দাঁড়িয়েছে। গত সপ্তাহের প্রথম দিন শনিবার বন্দর দিয়ে ৪৮ ট্রাক পণ্য আমদানি হয়েছে। রোববার তা কমে ১৯ ট্রাক পণ্য আমদানি হয়েছে। সোমবার আমদানি আরো কমে দাঁড়ায় মাত্র ১৬ ট্রাকে। মঙ্গলবার কিছুটা বেড়ে ২১ ট্রাক পণ্য আমদানি হয়। বুধবার ৩৭ ট্রাক পণ্য আমদানি হলেও বৃহস্পতিবার তা কমে ২৫ ট্রাকে দাঁড়ায়। বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি কমে যাওয়ায় রাজস্ব আহরণের পাশাপাশি বন্দরের দৈনন্দিন আয়ও কমেছে। সে সঙ্গে বন্দরে কর্মরত শ্রমিকদের আয় কমেছে। বৈশ্বিক মন্দাভাব ও নির্বাচন সামনে রেখে আমদানি-রফতানি কমায় এ সংকট সৃষ্টি হয়েছে।’
কাজ হারিয়ে অনেক শ্রমিক সংসার চালানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। সাংসারিক ব্যয় মেটানোর পাশাপাশি ছেলেমেয়ের পড়ালেখার খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।
হিলি স্থলবন্দরের শ্রমিক ইসরাইল হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বন্দরে কাজ করে আমরা যতটুকু চলতে পারতাম, এখন সে অবস্থা আর নেই। ভারত থেকে পণ্যবোঝাই ট্রাক বন্দরে কম আসছে, এ কারণে কাজ কমে গেছে। কাজ না থাকায় মাঝেমধ্যেই খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। মাঠে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজও শেষ, সেটা থাকলেও সংসার চালাতে পারতাম। এখন তো সে কাজও নেই।’
হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারক শাহিনুর রেজা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বন্দর দিয়ে আগে ২৫০-৩০০ ট্রাক পণ্য আমদানি রফতানি হতো। এখন তা কমে ২০-২৫ ট্রাকে ঠেকেছে। আবার কোনো দিন সর্বচ্চো ৩০ ট্রাক পণ্য আমদানি হচ্ছে।’
কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘হিলি স্থলবন্দর মূলত কাঁচামালের জন্য নির্ভরযোগ্য বন্দর। এ ধরনের পণ্যগুলোই বন্দর দিয়ে বেশি আমদানি হয়। বন্দর দিয়ে পর্যাপ্ত আলু আমদানি হলেও অনুমতি না থাকায় ১৫ ডিসেম্বর থেকে বন্ধ রয়েছে। এছাড়া বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি হয়। কিন্তু অভ্যন্তরীণ বাজারে পেঁয়াজের সংকট দেখিয়ে ৭ ডিসেম্বর থেকে ভারত সরকার রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে বন্দর দিয়ে পেঁয়াজও আমদানি হচ্ছে না। সেই সঙ্গে যোগ হয়েছে দেশে ডলার সংকট।’









