সংবিধানের আমূল পরিবর্তন বা নতুন সংবিধানের জন্য জনগণের ম্যান্ডেট বা সমর্থন সবচেয়ে নিরাপদ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘সংবিধানের আমূল পরিবর্তন বা নতুন সংবিধানের জন্য জনগণের নির্বাচিত সংসদই শ্রেয়। সংবিধান সংস্কারে অন্তর্বর্তী সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছে, তার জন্য উচিত ছিল বিপ্লবী সরকার করা। সেটি হয়নি।’ গতকাল সকালে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে এক অনানুষ্ঠানিক মতবিনিময়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমি যে কথাটা শুরু থেকেই বলেছিলাম, নির্বাচনটা হোক। একটা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যতটুকু সংস্কার করা দরকার—নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন—এগুলো সংস্কার করে নির্বাচনটা করে সেখানে আপনি সবকিছু করতে পারবেন। সংসদে প্রয়োজনীয় সব পরিবর্তন করতে পারেন। সবচেয়ে নিরাপদ হবে, জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে যদি আমূল পরিবর্তন করতে চান। আমার ব্যক্তিগত বক্তব্য হচ্ছে, সংবিধান পরিবর্তন করতে হলে আগে মানুষের কাছে যেতে হবে, তারা কীভাবে সংবিধানের পরিবর্তনটা চায়। আরেকটা বিষয় আছে আমি, আপনি, আমরা কয়েকজন এক্সপার্ট মিলে করে দিলাম, সেটা একটা। কিন্তু সংবিধানের আমূল পরিবর্তন বা নতুন সংবিধান, এটা করতে হলে আপনাকে গণপরিষদ করতে হবে। এক্ষেত্রে জনমতের বিষয়টি তো আছেই, তারপর আইনগত দিকগুলোও দেখতে হবে। আমরা নিজেরাই দল থেকে উদ্যোগ নিচ্ছি, সংবিধানের কী কী পরিবর্তন হতে পারে, সেই কাজ শুরু করেছি।’
তিনি বলেন, ‘নির্বাচন দিতে যত দেরি হবে তত দেশের ক্ষতি হবে, তত সমাজের ক্ষতি হবে, রাজনীতির ক্ষতি হবে। কারণ পলিটিক্যাল গভর্ন্যান্সের কোনো বিকল্প নেই। এটা প্রমাণিত যে গণতন্ত্রই হচ্ছে সর্বোত্তম পন্থা। আর যখন গণতন্ত্র ভালো হবে, তখন জনগণের সঙ্গে সম্পর্কটা ওতপ্রোত হয়। বিরাজনৈতিকীকরণের প্রক্রিয়া বাংলাদেশের জন্য কখনো মঙ্গল বয়ে আনবে না।’
পার্বত্য চট্টগ্রামের ঘটনার সঙ্গে অনেক কিছু জড়িত আছে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের ঘটনাকে আমি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা মনে করি না।’ এর সঙ্গে শূন্যতার সুযোগ নেয়া, ভূরাজনীতি—অনেক কিছু জড়িত আছে। সুতরাং এটাকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখে এখনই কোনো মন্তব্য করা ঠিক হবে না। তবে আমি মনে করি, এটা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের রাজনীতি ও অন্তর্বর্তী সরকারকে অস্থিতিশীল করার একটা অংশ। প্রতিবিপ্লব ঘটানোর প্রক্রিয়ায় বিপ্লবের সুফলকে নস্যাৎ করার চক্রান্ত। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে একটা বিরাজনৈতিকীকরণের প্রক্রিয়া শুরুর চেষ্টা। অন্যদিকে শেখ হাসিনা পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে যেসব কথা বলছেন, এটা কতটুকু সত্য-মিথ্যা আমি জানি না। কিন্তু সেই কথাগুলো একটা প্রভাব তৈরি করছে। সব মিলিয়ে বিষয়গুলো খুব স্বস্তিদায়ক নয়। এতে উদ্বিগ্ন হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে।’










