বেতন গ্রেড কমানো ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে নতুন শর্ত আরোপের প্রতিবাদে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দেশব্যাপী কর্মবিরতি শুরু করেছেন। মঙ্গলবার রাজধানীর মতিঝিলে কৃষি ভবনসহ দেশের বিভিন্ন কার্যালয়ে অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালন করছেন তারা। একই সঙ্গে রাজধানীর দিলকুশায় বিএডিসির প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচিও পালন করা হয়েছে।
দেশে এখন আমন মৌসুম চলছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় সারসংকটের অভিযোগ রয়েছে। কৃষকের কাছে সার সরবরাহ ও বিতরণে বিএডিসির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মবিরতি দীর্ঘ হলে সার সরবরাহ ও বিতরণ কার্যক্রমে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
বিএডিসির একাধিক কর্মকর্তা জানান, অর্থ বিভাগের সাম্প্রতিক এক আদেশে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন উইংয়ের ৩৮টি ক্যাটাগরির পদের বেতন গ্রেড ও নিয়োগযোগ্যতা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে মহাব্যবস্থাপকসহ অধিকাংশ পদের বেতন গ্রেড এক ধাপ কমানো হয়েছে। পাশাপাশি পদোন্নতির ক্ষেত্রে ফিডার পদে চাকরির মেয়াদও বাড়ানো হয়েছে।
কর্মকর্তাদের অভিযোগ, নতুন আদেশের ফলে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত পদমর্যাদা ও বেতন গ্রেডের অবনমন হয়েছে। এতে তাদের পদোন্নতির সুযোগও কমে যাবে। তাদের দাবি, এ সিদ্ধান্ত জাতীয় বেতন স্কেলের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক।
বিএডিসির কর্মকর্তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, এত দিন প্রতিষ্ঠানটির মহাব্যবস্থাপক ও প্রধান প্রকৌশলী পদ দ্বিতীয় গ্রেডের ছিল। নতুন আদেশে এসব পদ তৃতীয় গ্রেডে নির্ধারণ করা হয়েছে। অতিরিক্ত পরিচালক ও অতিরিক্ত মহাব্যবস্থাপক পদ তৃতীয় গ্রেড থেকে চতুর্থ গ্রেডে, উপপ্রধান প্রকৌশলী, যুগ্মপ্রধান ও যুগ্ম হিসাব নিয়ন্ত্রক পদ চতুর্থ গ্রেড থেকে পঞ্চম গ্রেডে এবং উপপরিচালক ও নির্বাহী প্রকৌশলী পদ পঞ্চম গ্রেড থেকে ষষ্ঠ গ্রেডে নামানো হয়েছে।
কর্মকর্তারা আরো বলেন, ১৯৬১ সালে বিএডিসি প্রতিষ্ঠার পর থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী পদটি পঞ্চম গ্রেডের ছিল। নতুন আদেশে সেটি ষষ্ঠ গ্রেড করা হয়েছে। প্রধান চিকিৎসক পদও চতুর্থ গ্রেড থেকে ষষ্ঠ গ্রেডে নামানো হয়েছে বলে তাঁদের দাবি।
এ ছাড়া অর্থ বিভাগের আদেশে বিএডিসির চারটি পরিচালক পদে সরকারের যুগ্ম সচিব অথবা অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে প্রেষণে নিয়োগের কথা বলা হয়েছে। এ সিদ্ধান্তেরও বিরোধিতা করছেন বিএডিসির কর্মকর্তারা।
তাঁদের দাবি, এর ফলে বিএডিসির নিজস্ব কর্মকর্তাদের সদস্য পরিচালকসহ উচ্চতর পদে যাওয়ার সুযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে যাবে। অতীতে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব কর্মকর্তারা সদস্য পরিচালক এমনকি চেয়ারম্যান পদেও দায়িত্ব পালন করেছেন বলে তাঁরা জানান।
নতুন আদেশে উচ্চতর গ্রেডে যাওয়ার ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত শর্ত দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ কর্মকর্তাদের। তাদের ভাষ্য, দ্বিতীয় গ্রেডে যাওয়ার জন্য তৃতীয় গ্রেডে পাঁচ বছর চাকরিসহ মোট ২৪ বছরের চাকরির শর্ত দেয়া হয়েছে। পঞ্চম গ্রেডে যাওয়ার ক্ষেত্রেও মোট ১৩ বছরের চাকরির শর্ত আরোপ করা হয়েছে।
কর্মকর্তাদের দাবি, জাতীয় বেতন স্কেল, ২০১৫ অনুযায়ী দ্বিতীয় গ্রেড পাওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণভাবে ১৭ বছরের চাকরির শর্ত থাকলেও নতুন আদেশে মোট চাকরির মেয়াদ ২৪ বছর করা হয়েছে। একইভাবে পঞ্চম গ্রেডের ক্ষেত্রে প্রচলিত ১০ বছরের পরিবর্তে ১৩ বছরের শর্ত দেয়া হয়েছে।
অর্থ বিভাগের নতুন আদেশ বাতিল এবং আগের বেতন গ্রেড ও পদোন্নতির সুযোগ পুনর্বহালের দাবিতে মঙ্গলবার থেকে কর্মসূচি শুরু করেছেন বিএডিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
আন্দোলনকারীরা জানান, মঙ্গলবার দেশব্যাপী বিএডিসির কার্যালয়গুলোতে অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালন করা হচ্ছে। রাজধানীর দিলকুশায় বিএডিসির প্রধান কার্যালয় কৃষি ভবনের সামনে বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা।
দাবি পূরণ না হলে আগামী সপ্তাহ থেকে আরও কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। তাদের পরিকল্পনায় পূর্ণাঙ্গ কর্মবিরতি বা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’-ও রয়েছে।










