নভেল করোনাভাইরাসের প্রভাবে দীর্ঘ ১৭ মাস বন্ধ থাকার পর দেশের অন্যান্য জেলার মতো খুলেছে ঝালকাঠির সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তবে বন্যা ও জোয়ারের পানিতে ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। এদিকে দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ থাকায় সংস্কারের অভাবে অনেক প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছে। যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

জানা যায়, ঝালকাঠি জেলায় ৯৪৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে কলেজ ২৭টি, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ১৭৩টি, নিম্ন মাধ্যমিক ২৪টি, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৫৮৫টি ও মাদ্রাসা ১২৩টি। এর মধ্যে সুগন্ধা ও বিষখালী নদীতীরে এবং দুর্গম এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বন্যার পানি ঢুকে তলিয়ে যায়। পানি স্থায়ী হলে বিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষে পাঠদান সম্ভব হয় না। ফলে বন্যার সময় নিরাপদ ও উঁচু স্থানে স্কুলের শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, উপকূলীয় জেলা ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার পঞ্চগ্রাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি বন্যা ও জোয়ারের পানিতে তলিয়ে আছে। টিনশেডের অবকাঠামো দুর্বল হয়ে ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। শ্রেণীকক্ষে পানি জমে থাকায় বেঞ্চের নিচের মাটি হাঁটু সমান কাদায় পরিণত হয়েছে।

এ অবস্থায় গত রোববার বিদ্যালয়টি খুললেও পাঠদান সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। যেকোনো সময় বিদ্যালয়টির অবকাঠামো ভেঙে ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। পাঠদান ব্যাহত হওয়ায় এ বিদ্যালয়ের ৩১৯ শিক্ষার্থী পড়েছেন বিপাকে।

পানি উঠে পাশের আখরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির ছোট একটি ভবনও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এদিকে সদর উপজেলার পশ্চিম দেউরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অর্ধেকাংশ নদীভাঙনে বিলীন হয়ে যাওয়ায় পাশের একটি মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেয়া হচ্ছে। এছাড়া বন্যার পানিতে নলছিটির মাটিভাঙা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ভেরনবাড়িয়া সিএইচইউ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ভেরনবাড়িয়া আলিম মাদ্রাসা, জুরকাঠি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, জুরকাঠি দাখিল মাদ্রাসাসহ জেলার ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ সমস্যার দ্রুত সমধান করে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষকরা।

নলছিটি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আনোয়ার আজিম বলেন, বন্যার পানিতে তলিয়ে থাকা এবং অবকাঠামো ভেঙে পড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আপাতত নিজ খরচে মেরামত করার জন্য বলা হয়েছে। প্রয়োজনে পাশের কোনো উঁচু স্থানে পাঠদানের ব্যবস্থা করা হবে। কষ্ট হলেও পাঠদানের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়েছে।