এ ঘটনায় অন্তত ৩৫ বাংলাদেশী কর্মী আহত হয়েছেন। এছাড়া মেহেরপুরের আলাল হোসেন রাজু নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে মস্কোয় বাংলাদেশ দূতাবাস।
গত ২৫ আগস্ট স্থানীয় সময় বেলা আড়াইটার দিকে এজিসিসি প্রকল্পের সিনোপেক প্লান্ট-৪ ও প্লান্ট-১০ এলাকায় পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলাকালে এ বিস্ফোরণ ঘটে। প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, পরীক্ষার সময় একটি পাইপ ফেটে আগুন ধরে যায় এবং পাইপলাইনের চেক ভালভ পুড়ে গিয়ে ব্যাপক বিস্ফোরণ ঘটে।
২০২৫ সালে চীনা ওই কোম্পানির প্রকল্পে প্রায় ২ হাজার ৫০০ বাংলাদেশী কর্মী যান। বর্তমানে প্রকল্পটি শেষ পর্যায়ে থাকায় প্লান্ট ৪ ও ১০ মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার ৬০০ কর্মী সেখানে কর্মরত রয়েছেন।
মস্কোর বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিস্ফোরণে রুশ, চীনা, বাংলাদেশী, নেপালি, আজারবাইজান, উজবেক ও তাজিকিস্তানের কর্মীসহ প্রায় ৫০-৬০ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া কয়েকজন কর্মী নিখোঁজ রয়েছেন। অসমর্থিত সূত্রে নিহতের সংখ্যা ১৫ হতে পারে বলে জানা গেছে।
মস্কোয় বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, আহতদের মধ্য থেকে শারীরিকভাবে সংকটাপন্ন দুই বাংলাদেশী কর্মীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রায় ৭ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দূর থেকে মস্কোর একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এছাড়া সাতজন গুরুতর আহত বাংলাদেশী কর্মীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য মস্কোর বিশেষায়িত হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার প্রক্রিয়া চলছে। এর মধ্যে ছয়জন আইসিইউতে ভর্তি রয়েছেন। আহতদের চিকিৎসার বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস সজাগ দৃষ্টি রাখছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করছে।
মস্কোয় নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান গতকাল বাংলাদেশ সময় বিকাল ৫টায় বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দুর্ঘটনায় কিশোরগঞ্জের জাকির হোসেন মারা গেছেন। মেহেরপুরের আলাল হোসেন রাজু নিখোঁজ রয়েছেন। আহত বাংলাদেশীরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এর মধ্যে অন্তত সাতজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।’
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মস্কোর বাংলাদেশ দূতাবাস বিস্ফোরণে আহত বাংলাদেশী নাগরিকদের চিকিৎসা ও সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে রুশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। দূতাবাস এরই মধ্যে একটি হটলাইন টেলিফোন নম্বর চালু করেছে এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানিতে কর্মরত অন্য বাংলাদেশী নাগরিকদের সঙ্গেও সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখছে।
দূতাবাস নিহত বাংলাদেশী নাগরিক জাকির হোসেনের মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। দূতাবাস তার বকেয়া পাওনা ও ক্ষতিপূরণের বিষয়ে এলএলসি সিনোপেক ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপের সঙ্গেও যোগাযোগ অব্যাহত রাখছে।
এ মর্মান্তিক ঘটনায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশী কর্মী ও তাদের পরিবারের প্রতি এবং রাশিয়ার জনগণ ও সরকারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছে।










