গতকাল এনইসি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘স্টেকহোল্ডার সেনসিটাইজেশন ওয়ার্কশপ অন মাইক্রোডেটা অ্যানালাইসিস ল্যাব অব বিবিএস’ শীর্ষক এক কর্মশালায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (কোইকা) সমর্থিত ‘ক্যাপাসিটি বিল্ডিং অব স্ট্যাটিস্টিকস সার্ভিস বেজড অন প্লাটফর্ম (সিবিএসএসপি)’ প্রকল্পের আওতায় কর্মশালাটি আয়োজন করা হয়।

কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকল্প পরিচালক কবির উদ্দিন আহমেদ। তিনি জানান, কর্মশালায় জানানো হয় যে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) দেশের জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থা হিসেবে নিয়মিতভাবে বিভিন্ন শুমারি ও জরিপ পরিচালনা করে থাকে। এসব শুমারি ও জরিপের রিপোর্ট প্রকাশসহ মাইক্রোডাটা (শুমারির ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ এবং জরিপের ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ) ব্যবহারকারীর জন্য উন্মুক্ত করে থাকে। নবপ্রতিষ্ঠিত মাইক্রোডাটা অ্যানালাইসিস ল্যাবের মাধ্যমে সব মাইক্রোডাটা ১০০ শতাংশ ব্যবহারকারীর জন্য উন্মুক্ত করা হবে। এসব শুমারি ও জরিপের মাধ্যমে সংগৃহীত মাইক্রোডাটা গবেষণা, উচ্চ শিক্ষা, অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ, নীতি প্রণয়ন এবং কর্মসূচি মূল্যায়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে মাইক্রোডাটা ব্যবহারের ক্ষেত্রে উত্তরদাতার গোপনীয়তা, তথ্যের নিরাপত্তা এবং আইনগত বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক। এ প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় বিবিএস নিরাপদ, নিয়ন্ত্রিত ও অন-সাইট ব্যবহারের জন্য এ ল্যাব প্রতিষ্ঠা করেছে।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। তিনি বলেন, ‘সরকারি পরিসংখ্যান নিয়ে দীর্ঘদিনের জনসন্দেহের পরিপ্রেক্ষিতে তথ্য সংগ্রহ ও প্রচারের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বাড়াতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’ দারিদ্র্যের হার, জনসংখ্যা এবং আয়সংক্রান্ত বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও সামাজিক সূচকের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যের প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, ‘অগ্রগতি পরিমাপ, নীতির ফলাফল মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য অপরিহার্য। গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়, উন্নয়ন সহযোগী এবং সাধারণ নাগরিকরা যেন স্বাধীনভাবে দেশের বাস্তবতা বিশ্লেষণ ও মূল্যায়ন করতে পারেন, সেজন্য তথ্য ও উপাত্তের ক্ষেত্রে সরকার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে চায়।’

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মো. ফিরোজ সরকার। বিশেষ অতিথি ছিলেন কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (কোইকা) বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর জিহুন কিম। স্বাগত বক্তব্য দেন বিবিএসের মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মোহাম্মদ ওবায়দুল ইসলাম।

কোইকা বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর জিহুন কিম বলেন, ‘বিবিএসের সঙ্গে চলমান সহযোগিতার মাধ্যমে তথ্য প্লাটফর্ম, ডেটা ওয়্যারহাউজ এবং আন্তর্জাতিক তথ্য প্রচার মানদণ্ডের ব্যবহার করে দেশের পরিসংখ্যান অবকাঠামো আধুনিকায়নে সহায়তা করা হচ্ছে।’