শ্রমিকের মজুরি ও উৎপাদন খরচ বাড়লেও ভালো দাম পেয়ে খুশি কৃষকরা। বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে ৪,২০০ থেকে ৪,৪০০ টাকায়। মৌসুমের শুরুতে দাম আরো বেশি ছিল। কৃষি বিভাগের সঠিক পরামর্শ, অনুকূল আবহাওয়ায় ভালো ফলন ও চাষীরা সন্তোষজনক দাম পাওয়ায় চাঙ্গা হয়ে উঠছে এ অঞ্চলের পাটের বাজার।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক কার্যালয়ের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে যশোরে ২৫ হাজার ১২৫ হেক্টর, ঝিনাইদহে ২০ হাজার ২২৭, মাগুরায় ৩৪ হাজার ৮১৮, কুষ্টিয়ায় ৪০ হাজার ৩১৫, চুয়াডাঙ্গায় ৯ হাজার ১৩৫ ও মেহেরপুরে ২০ হাজার ৫৭৫ হেক্টর জমিতে পাট আবাদ হয়েছে।
কৃষক সূত্রে জানা গেছে, এবার মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টির ঘাটতির কারণে অনেক কৃষককে সেচের মাধ্যমে পাটবীজ বপন করতে হয়েছে। ফলে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। তবে পরে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় পাটের বৃদ্ধি ভালো হয়েছে। এছাড়া খাল-বিল ও জলাশয়ে পর্যাপ্ত পানি থাকায় জাগ দেয়ায় তেমন কোনো সমস্যা হয়নি। সাধারণত জুনের মাঝামাঝিতে পাট কাটা শুরু হয় এবং মাসের শেষ দিকৈ বাজারে নতুন পাট ওঠা শুরু করে।
এ অঞ্চলের প্রধান পাটের মোকামগুলোর মধ্যে রয়েছে ঝিনাইদহের শৈলকুপা, লাঙ্গলবাঁধ, হাটফাজিলপুর, নাগিরাট, হাটগোপালপুর, কোটচাঁদপুর ও বারোবাজার; মাগুরার মহম্মদপুর, শ্রীপুর, নাকোল ও শালিখা; যশোরের চৌগাছা, ঝিকরগাছা, নাভারন ও কেশবপুর; কুষ্টিয়ার কুমারখালী, খোকসা, মিরপুর, দৌলতপুর, পোড়াদহ ও পান্টি; মেহেরপুরের গাংনী, সদর ও মুজিবনগর এবং চুয়াডাঙ্গার জীবননগর, আলমডাঙ্গা ও সদর বাজার। বর্তমানে এসব বাজারে প্রতিদিনই নতুন পাট লেনদেন বাড়ছে।
শৈলকুপা মোকামের পাট ব্যবসায়ী নিরঞ্জন শিকদার জানান, নতুন পাটের আমদানি প্রতিদিনই বাড়ছে। স্থানীয় হাট ও মোকাম থেকে পাট সংগ্রহ করে তারা ফরিদপুর, রাজবাড়ী, যশোর, বগুড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ছোট-বড় পাটকল এবং রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করছেন।’
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ঝিনাইদহের উপপরিচালক মো. কমরুজ্জামান বলেন,"‘এ বছর পাটের আবাদ ও ফলন দুটোই ভালো হয়েছে। বাজারে দামও সন্তোষজনক রয়েছে।’ তিনি দাবি করেন, বর্তমান বাজারদরে কৃষক উৎপাদন খরচ মিটিয়ে লাভ করতে পারছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক আলমগীর বিশ্বাস বলেন, ‘চলতি মৌসুমে পাট উৎপাদন বাড়াতে কৃষি বিভাগ মাঠপর্যায়ে সমন্বিত নানা উদ্যোগ নেয়।’










