বাগেরহাটে পরিত্যক্ত ও জরাজীর্ণ ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে নাগরিক সেবা নিতে এসে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী। বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে সেবা দিতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের। দীর্ঘদিন সেবাপ্রত্যাশীরা বিড়ম্বনার শিকার হলেও প্রতিকার মিলছে না বলে অভিযোগ জনপ্রতিনিধিদের। 

সরজমিন দেখা যায়, বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের তেলিগাতী ইউনিয়ন পরিষদের পুরো ভবনই ভঙ্গুর অবস্থায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। বিভিন্ন স্থান থেকে খসে পড়ছে পলেস্তারা। পরিষদের চেয়ারম্যানের কক্ষের মেঝেতে ম্যাট বিছিয়ে কোনোমতে অফিস করছেন সংশ্লিষ্টরা। সবার মাঝে আতঙ্ক, কখন যেন ছাদ ভেঙে পড়ে মাথায়। কচুয়া উপজেলার বাধাল ইউনিয়ন পরিষদ ভবনও জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে শুধু তেলিগাতী ও বাধাল ইউনিয়ন পরিষদ নয় রায়েন্দা, ষাটগম্বুজ, কাড়াপাড়া, বলইবুনিয়া, গাংনী, কলাতলা, রামচন্দ্রপুর ও বড়বাড়িয়াসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার ২৭টি ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ অন্তত নয়টি। 

বয়স্কভাতা নিতে আসা কাকলী রানী দাস বলেন, ‘মানুষের ভিড়ের মধ্যে কোথায় বসব। ভবনে কোনো জায়গা নাই, পরিত্যক্ত ভবন তাই গাছের নিচে বসে আছি।’

অন্য সেবাগ্রহীতা নাজনীন বলেন, ‘টিসিবির কার্ড নিয়ে এসে রাস্তায় দাঁড়িয়ে। পরিষদের পুরনো ভবন ভেঙে পড়ছে। বৃষ্টি হলে ছাদ চুয়ে চুয়ে পানি পড়ে। আমরা কয়েকবার এখানে এসে নানা সমস্যায় পড়েছি।’ 

পরিত্যক্ত ভবনে ঝুঁকি নিয়ে সেবা দিতে বিড়ম্বনার কথা স্বীকার করে তেলিগাতী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোর্শেদা আকতার বলেন, ‘পরিত্যক্ত ও জরাজীর্ণ ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে অনেক কষ্ট করে নাগরিক সেবা দিয়ে যাচ্ছি।’

অন্যদিকে বাধাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নকীব ফয়সাল অহিদ  বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সে  সেবাপ্রত্যাশীদের ভিড় লেগেই থাকে। বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে কার্যাক্রম চালাতে হয়। আশপাশে কোনো ভবন নেই, যে ভাড়া নেব। আমরা দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানাই।’  

সেবাপ্রত্যাশীদের ভোগান্তির কথা স্বীকার করে জেলা প্রশাসক মোহাঃ খালিদ হোসেন বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে যত দ্রুত সম্ভব ভবনগুলো নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হবে।’

বাগেরহাট এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুজ্জামান বলেন, ‘জেলায় ৭৫টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে ৪৮টি ইউনিয়ন পরিষদের নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এখনো ২৭টি ইউনিয়ন পরিষদের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে মোল্লাহাট উপজেলার উদয়পুর ও গাংনী ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব জায়গা নেই। এছাড়া মোরেলগঞ্জ উপজেলার ঝিউধারা ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের নির্মাণকাজ বরাদ্দের অভাবে বন্ধ রয়েছে। এসব ভবনের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্প অনুমোদন হলে তৃতীয় পর্যায়ে নতুন পরিষদ ভবন নির্মাণ করা হবে।’