নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, ‘আমরা বারবার বলে আসছি, একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে প্রতীকের বরাদ্দ পেতেই আমাদের বারবার কমিশনে যেতে যেতে জুতার তলা ক্ষয়ে যাচ্ছে। এতদিন ধরে ইসি কোনো নির্দিষ্ট নীতিমালা ছাড়াই প্রতীক বরাদ্দের কাজ করেছে। নির্বাচন কমিশন আমাদের উপর স্বেচ্ছাচারী হয়ে অন্য প্রতীক চাপিয়ে দিতে চায়।’ রোববার (১৯ অক্টোবর) ইসি সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদের সঙ্গে এনসিপি প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘এতদিন ইসি কোনো নির্দিষ্ট নীতিমালা ছাড়াই কাজ করেছে। এটা এক ধরনের জঙ্গলীয় কায়দায় চলছে—যার যেমন ইচ্ছা, তেমনভাবে চলছে। কোনো রুলস, কোনো রেগুলেশন নেই।’ এনসিপির এ নেতা অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন স্বেচ্ছাচারীভাবে তাদের ওপর অন্য প্রতীক চাপিয়ে দিতে চাইছে। কিন্তু ইসির আইন, রাজনৈতিক দল নিবন্ধন বিধিমালা ২০০৮–এর ৭(২) ধারায়, তা করার কোনো অধিকার কমিশনের নেই।
তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের চিঠির জবাব দিয়েছি। তারা আগে বলেছিল, শাপলা জাতীয় প্রতীক—আইনি বাধা আছে। আমরা সেই ফুটনোটের উত্তর দিয়েছি। এরপর তারা কনভিন্স হয়ে আগের অবস্থান থেকে সরেছে। এখন তারা বলছে, শাপলা তো তালিকায় নেই! তাহলে এতদিন কোন নীতিমালার ভিত্তিতে তারা প্রতীকের তালিকা তৈরি করেছে? আমাদের যে ৫০টি প্রতীক দিয়েছে, সেগুলো তালিকাভুক্ত হলো কীভাবে? কোন নীতিমালায় এসব এনলিস্ট করা হয়েছিল?’
নাসীরুদ্দীন বলেন, ‘ইসি আমাদের জানিয়েছে, তাদের এ মুহূর্তে ঐ ধরনের কোনো নীতিমালা নেই। আমরা দাবি জানিয়েছি—ইসিকে নীতিমালা তৈরি করতে হবে, যাতে নির্ধারণ করা যায় কোন রাজনৈতিক দল কোন প্রতীক পেতে পারে। তাছাড়া, নির্বাচন কমিশন স্বেচ্ছাচারীভাবে কোনো প্রতীক চাপিয়ে দিতে পারে না।’
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনকে কোনো ধর্মীয়, রাজনৈতিক দল, পরিবার বা নির্দিষ্ট ইসলামিক ব্যানারের হাতে তুলে দিতে চাই না। যেখানে বাংলাদেশের ৯০ শতাংশ মানুষ মুসলিম, সেখানে জামায়াত ইসলামকে ১০ শতাংশে নামিয়ে এনেছে। এভাবে তারা নির্বাচন ও রাজনীতিতে মাফিয়াগিরি চালাচ্ছে।’
পাটোয়ারী ছাড়াও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ, যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ ও যুগ্ম সদস্য সচিব জহিরুল ইসলাম মূসা। প্রধান নির্বাচন কমিশনার অনুপস্থিত থাকায় কমিশন সচিবের সঙ্গেই বৈঠক করেন তারা।










