সাম্প্রতিক সময়ে ফেনীতে ভয়াবহ বন্যার পর এবার নদী ভাঙন আরেক বিপদ নিয়ে এসেছে নদী পাড়ের বাসিন্দাদের জীবনে। ছোট ফেনী নদী ও কালীদাস পাহালিয়া নদীতে জোয়ারের পর ভাটার সময় তলিয়ে যাচ্ছে ঘরবাড়িসহ রাস্তাঘাট। এরইমধ্যে অন্তত শতাধিক ঘর নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এ নিয়ে নদী পাড়ের হাজার হাজার পরিবার চরম উৎকণ্ঠায় দিনাতিপাত করছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, নদীতে ভাঙন ঠেকাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কার্যক্রম হাতে নেয়া হচ্ছে।

জানা যায়, ফেনীতে সম্প্রতি ভয়াবহ বন্যায় পানির প্রবল স্রোতে নদী পাড়ের মাটি দূর্বল হয়ে পড়ে। একই সময় ছোট ফেনী নদীর ওপর নির্মিত মুছাপুর রেগুলেটর ভেঙে বিলীন হয়ে যাওয়ায় জোয়ার ভাটার সময় পানির ধাক্কায় নদীর পাড় প্রতিদিনই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যার কারণে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর প্রতিদিনই ফেনীর কালীদাস পাহালিয়া ও ছোট ফেনী নদীর পাড় ভেঙে নদীতে তলিয়ে যাচ্ছে। বিলীন হয়ে যাচ্ছে রাস্তাঘাট ও মানুষের বসতি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কালীদাস পাহালিয়া নদী প্রবাহমান এলাকা ফেনী সদর উপজেলার লেমুয়া ইউনিয়নের চাঁদপুর, দাশপাড়া, ছনুয়া ইউনিয়নের পূর্ব সিলোনিয়া এবং নবাবপুর ইউনিয়নের অন্তত ৫টি গ্রামে নদী ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এছাড়াও ছোট ফেনী নদীর চরদরবেশ ইউনিয়নের কাটাখিলাসহ আশপাশের বিস্তৃর্ণ এলাকায় নদী ভাঙনে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

ফেনী সদর উপজেলার নবাবপুর- লেমুয়া ইউনিয়নে যাতায়াতের পিচঢালা প্রধান সড়কটি নদী ভাঙনে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ইতোমধ্যে ১২ ফুট সড়কের ১০ ফুটই নদীতে তলিয়ে গেছে। এতে সকল ধরনের পরিবহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

ভাঙন কবলিত ছনুয়া ইউনিয়নের পূর্ব সিলোনীয়া গ্রামের গৃহবধু আয়েশা আক্তার জানান, গত ১ মাসে এ এলাকায় অন্তত ৪০টি বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে। অনেকেই এক কাপড়ে বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন। সরকারি-বেসরকারি কোনো উদ্যোগ অথবা কোনো সহযোগিতার কথা এখানকার কেউ জানেনা।

লেমুয়া ইউনিয়নে মধ্যম চাঁনপুর গ্রামে রেলওয়ের অবসরপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা বলেন, ভয়াবহ বন্যা জমির ফসল, পুকুরের মাছ ও ঘরের সকল আসবাবপত্র শেষ করে দিয়েছে। বন্যার পর একের পর এক বাড়ি, ফসলি জমি ও রাস্তাঘাট নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। দ্রুত নদী ভাঙন রোধ করতে না পারলে মাথা গোঁজার ঠিকানাটিও হারাতে হবে।

এ ব্যাপারে সোনাগাজী উপজেলার নবাবপুর ইউপি চেয়ারম্যান জহিরুল আলম জানান, ভয়াবহ বন্যায় নবাবপুর ইউনিয়নে ৫টি গ্রামে কালিদাস পাহালীয়া নদীর তীরে ৭টি ভাঙন স্থান দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। প্রশাসনের কর্তারা ভাঙনস্থল পরিদর্শন করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের ফেনী জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ রাশেদ শাহরিয়ার বলেন, বন্যার পর ফেনীর বিভিন্ন স্থানে নদী ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই নদী ভাঙন দেখা দেয়ায় নদী পাড়ের মানুষের বিপদ কাটছে না। ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে।