ঢাকা-বরিশাল নৌরুটের একাধিক পয়েন্টে প্রকট হয়ে উঠেছে নাব্য সংকট। এরই মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে রুটটির একটি চ্যানেল। কয়েকদিন ধরে প্রায় প্রতি রাতেই ডুবোচরে আটকে যায় যাত্রীবাহী লঞ্চ। এ অবস্থায় লঞ্চগুলোকে চলতে হচ্ছে নদীর জোয়ার-ভাটা দেখে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, নাব্য
সংকটের কারণে বরিশাল থেকে ঢাকাগামী লঞ্চগুলো আপাতত বিকল্প একটি চ্যানেল দিয়ে চলাচল
করছে। অন্যদিকে বরিশাল নৌবন্দর সংলগ্ন কীর্তনখোলা নদীতে পলি জমে নাব্যতা কমে গেছে।
এতে বন্দরটি থেকে লঞ্চ ছাড়তে জোয়ারের অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ফলে লঞ্চগুলো ঘাট ছেড়ে
যাচ্ছে নির্ধারিত সময়ের ২-৩ ঘণ্টা দেরিতে।
ঢাকা-বরিশাল রুটের লঞ্চ এমভি সুন্দরবন
১১-এর মাস্টার আলমগীর হোসেন বলেন,
বরিশাল নদীবন্দর থেকে চাঁদপুর পর্যন্ত অন্তত
ছয়টি পয়েন্টে নাব্য সংকট দেখা দিয়েছে। এসব পয়েন্টে প্রায়ই লঞ্চ আটকে যাচ্ছে। এদিকে
নাব্য সংকটের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে মিয়ারচর চ্যানেল। গত দুই মাস ধরে ওই চ্যানেল হয়ে
লঞ্চ চলাচল করতে পারছে না। সম্প্রতি ওই চ্যানেলের প্রবেশমুখে একটি বাল্কহেড ডুবে
যায়। সেটি উদ্ধার না করায় চ্যানেলটির বিভিন্ন পয়েন্টে পলিমাটি জমে নদীর গভীরতা কমে
গেছে। এ অবস্থায় বিকল্প চ্যানেল মেঘনার উলানীয়া-কালীগঞ্জ হয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে
করে গন্তব্যে পৌঁছতে সময় লাগছে স্বাভাবিকের থেকে ২ ঘণ্টা বেশি। তবে বর্তমানে
বিকল্প এ চ্যানেলও বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, উলানীয়া-কালীগঞ্জ
চ্যানেলে এখন জোয়ারের সময়ও পানি থাকছে সর্বোচ্চ দুই মিটার। অথচ লঞ্চগুলোর তলদেশও
অন্তত দুই মিটার ডুবে থাকে। ফলে এ চ্যানেলে নদীর তলদেশ ঘেঁষে লঞ্চ চলাচল করছে।
এছাড়া চ্যানেলটির বিভিন্ন পয়েন্টে ডুবোচরে পণ্যবাহী জাহাজ আটকে থাকায় দুর্ঘটনার
আশঙ্কাও রয়েছে। এ অবস্থায় উলানীয়া-কালীগঞ্জ চ্যানেলও বন্ধ হয়ে গেলে বরিশাল-ঢাকা নৌরুটের লঞ্চগুলোকে চলাচল করতে
হবে ভোলার ইলিশা হয়ে।
এদিকে নৌরুটটির বাউশিয়া-নলবুনিয়া
চ্যানেলেও আগের মতো পানি থাকছে না। সাত-নয় মিটারের স্থলে বর্তমানে এ চ্যানেলে জোয়ারের সময় পানি থাকছে সর্বোচ্চ
আড়াই মিটার। ভাটার সময় পানি আরো কমে যায়। ফলে ভাটার সময় বড় নৌযান চলাচল বন্ধ থাকে।
একই অবস্থা বরিশাল শহরের উপকণ্ঠ শায়েস্তাবাদের কীর্তনখোলা ও আড়িয়াল খাঁসহ তিন নদীর
মোহনারও। পলিমাটি জমে এ চ্যানেলও বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
এমভি কীর্তনখোলা ১০ লঞ্চের মাস্টার মো. সাজ্জাদ
হোসেন বলেন, বর্তমানে বরিশাল লঞ্চঘাটেও নাব্য সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। ফলে প্রায়
প্রতিরাতেই লঞ্চ ছাড়ার জন্য জোয়ারের অপেক্ষায় ২-৩ ঘণ্টা বিলম্ব হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, গত
২৬ অক্টোবর রাতে কীর্তনখোলা ১০ ও অ্যাডভেঞ্চার ৯ বরিশাল নৌবন্দরে আটকে যায়। পরে
জোয়ার এলে রাত ৯টার স্থলে লঞ্চ দুটি ছেড়ে যায় রাত ১০টার পর। একইভাবে ২৭ অক্টোবর
রাতে আটকে যায় এমভি মানামি লঞ্চ। জোয়ারের অপেক্ষায় থেকে নির্ধারিত সময়ের ৩ ঘণ্টা
পর ঘাট ত্যাগ করে লঞ্চটি।
বরিশাল-ঢাকা নৌরুটের এ নাব্য সংকটের জন্য
বিআইডব্লিউটিএর অপরিকল্পিত ড্রেজিংকেই দায়ী করছেন লঞ্চ মালিক ও মাস্টাররা। তারা
অভিযোগ করেন, ড্রেজিংয়ের বালিমাটি ফের নদীতেই ফেলা হচ্ছে। ফলে পুনরায় নদীর তলদেশ
ভরাট হয়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে বরিশাল নদীবন্দর কর্মকর্তা
এবং বিআইডব্লিউটিএর নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপপরিচালক আজমল হুদা মিঠু
সরকার বলেন, বছরের এ সময় নদীতে পানি কম থাকে। এ কারণে কিছু পয়েন্টে পলি জমে নাব্য
সংকট সৃষ্টি হয়। এরই মধ্যে ড্রেজিং শুরু করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, শিগগিরই
এ সমস্যার সমাধান হবে।
তিনি আরো বলেন, ড্রেজিংয়ের
বালি নদীতে ফেলা ছাড়া উপায় নেই। কেননা যে পরিমাণ বালি উত্তোলন করা হয়, তা
স্থলে ফেলার মতো জায়গা নেই।










