তিনি বলেছেন, ‘এখনই মায়ের দুধ খাওয়ানোর ব্যাপারে সচেতনতা বাড়াতে হবে। জন্মের পর থেকেই শিশুদের মাতৃদুগ্ধ নিশ্চিত করা গেলে একটি সুস্থ ও সবল প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব হবে।’
গতকাল রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ‘বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘জীবনের সূচনায় মাতৃদুগ্ধ পান: টেকসই উদ্যোগ করি বেগমান’ প্রতিপাদ্যে মাতৃদুগ্ধ পান বাড়াতে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আল্লাহ মায়ের দুধকে পৃথিবীর সেরা প্রোটিন হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। শিশুর জীবনের প্রথম চার-পাঁচ মাস বেড়ে ওঠার প্রধান উৎস হলো মায়ের দুধ। প্রসবের পরপরই শিশুকে শালদুধ খাওয়ানো অত্যন্ত জরুরি। কারণ এতে সর্বোচ্চ মাত্রার প্রয়োজনীয় প্রোটিন থাকে।’ তিনি বলেন, ‘কোরআনসহ সব ধর্মেই নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়ানোর কথা বলা হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে সিজারিয়ানের হার বেড়ে যাওয়া এবং সচেতনতার অভাবে অনেক শিশু শালদুধ ও মাতৃদুগ্ধ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।’
অল্প বয়সে বিয়ে, অসচেতনতা এবং শিশুকে মায়ের দুধ না দেয়ার কারণেই পুষ্টিহীনতা বাড়ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের সমালোচনা করে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘গত এক বছরে গ্রামের সাধারণ মানুষকে সচেতন করার মতো কার্যকর কোনো সভা-সেমিনার হয়নি। এখন থেকে এক বছরের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে প্রতি মাসে অন্তত একটি জেলায় সিভিল সার্জন, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে মাতৃদুগ্ধের প্রয়োজনীয়তা বিষয়ে কর্মসূচি করা হবে।’
শিশুখাদ্য ও বিকল্প দুধের বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে মাতৃদুগ্ধের বিকল্প খাদ্য নিয়ন্ত্রণে আইন রয়েছে। বাজারে পাওয়া সংরক্ষণকারী উপাদান ও বিভিন্ন ওষুধ মেশানো গুঁড়া দুধের চেয়ে ঘরে তৈরি সুষম খাবার শিশুর জন্য অনেক বেশি উপযোগী।’
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী সভাপতিত্ব করেন। উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এসএম জিয়াউদ্দিন হায়দার, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্বস্বাস্থ্য অনুবিভাগ) শেখ মোমেনা মনি এবং জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনুস আলী।









