চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (আরএডিপি) ২ লাখ কোটি টাকা বরাদ্দ অনুমোদন দিয়েছে সরকার। মূল বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ কমিয়ে নতুন এ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আজ সোমবার (১২ জানুয়ারি) পরিকল্পনা কমিশনের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি) সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ জানান, মূল বরাদ্দের তুলনায় প্রায় ১৩ শতাংশ কাটছাঁট করা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন থেকে ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক উৎস থেকে ১৪ হাজার কোটি টাকা কমানো হয়েছে। সরকারি তহবিলের বরাদ্দ কমে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকায়। অন্যদিকে বিদেশী ঋণ ও অনুদানের পরিমাণ কমে হয়েছে ৭২ হাজার কোটি টাকা।

উপদেষ্টা জানান, চলতি অর্থবছরে প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি থাকায় মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর চাহিদা কম ছিল। সংশোধিত এডিপিতে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ পেয়েছে পরিবহন ও যোগাযোগ খাত। এ খাতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৩৮ হাজার ৫০৯ কোটি টাকা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ পেয়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত, যার পরিমাণ ২৬ হাজার ১৮৬ কোটি টাকা। এছাড়া শিক্ষা, আবাসন ও স্থানীয় সরকার খাতের জন্য উল্লেখযোগ্য অর্থ রাখা হয়েছে।

এদিকে সংশোধিত এডিপিতে সবচেয়ে বেশি কাটঁছাট হয়েছে স্বাস্থ্যখাতে। প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি ও দুর্নীতির নানা অভিযোগের কারণে এ খাতের বরাদ্দ প্রায় ৭৪ শতাংশ কমানো হয়েছে। মূল এডিপিতে স্বাস্থ্য খাতে ১৮ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও সংশোধনের পর তা মাত্র ৪ হাজার ৭১৮ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। একইভাবে শিক্ষা খাতেও বরাদ্দ কমানো হয়েছে প্রায় ৩৫ শতাংশ।