বিএনপি সরকারের ছয় মাস পূর্তি উপলক্ষে পরিচালিত এক জরিপে প্রশ্ন ছিল, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কতটা ভালো বা খারাপভাবে তার দায়িত্ব পালন করছেন। জরিপে অংশ নেয়াদের মধ্যে ৬৬ দশমিক ৩০ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তার দায়িত্ব ভালোভাবে পালন করছেন। আর সরকারের সামগ্রিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক সায় দিয়েছেন ৫৪ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ।

ডপলার অপিনিয়ন রিসার্চ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ‘অ্যাপ্রুভাল রেটিং সার্ভে ২০২৬’ শীর্ষক জরিপে এই চিত্র উঠে এসেছে। আজ বুধবার বিকালেজ রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিডা ভবনের মাল্টিপারপাস হলে এক অনুষ্ঠানে এ জরিপের ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

এ জরিপের জন্য ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ইনোভিশনের এক জরিপে অংশ নেয়া ১০ হাজার ৪১৩ জনের সঙ্গে সম্প্রতি টেলিফোনে যোগাযোগ করেছে ডপলার। তাদের মধ্যে ৩ হাজার ৪৪৩ জন এ জরিপে অংশ নিয়েছেন। এ নমুনায় দেশের ৬৪টি জেলার ৪৮৯টি ওয়ার্ড ও গ্রামের প্রতিনিধিত্ব ছিল।

জরিপে দেখা যায়, অংশ নেয়াদের ৬৬ দশমিক ৩ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক প্রধানমন্ত্রীর কার্যক্রমে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। বিপরীতে ২১ দশমিক ৬ শতাংশ উত্তরদাতা তার কাজকে অসন্তোষজনক বলেছেন এবং ১২ দশমিক ১ শতাংশ কোনো মন্তব্য করেননি।

প্রধানমন্ত্রীর এ ইতিবাচক রেটিং দেশের আটটি বিভাগেই ৬২ শতাংশের ওপরে ছিল। এমনকি বিরোধী রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের মধ্যেও তার গ্রহণযোগ্যতা দেখা গেছে, জামায়াতে ইসলামীর ৬৫ দশমিক ৫ শতাংশ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ৬৫ দশমিক ৮ শতাংশ এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ৫২ দশমিক ৫ শতাংশ প্রধানমন্ত্রীর নানা কাজে সন্তুষ্ট। এর বিপরীতে সরকারের সামগ্রিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক সায় দিয়েছেন ৫৪ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ, আর অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ৩২ দশমিক ৯ শতাংশ।

জরিপে দেখা যায়, দেশে সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি। একই সঙ্গে এসব সংকট মোকাবেলায় সরকারের ভূমিকাকে চরম হতাশাজনক বলে মূল্যায়ন করেছে দেশের জনগণের বড় একটি অংশ।

জরিপে উন্মুক্ত প্রশ্ন হিসেবে দেশের প্রধান সমস্যা চিহ্নিত করতে বলা হলে ৫৯ দশমিক ৫ শতাংশ উত্তরদাতা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কথা জানান। ৫৯ দশমিক ১ শতাংশ নাগরিক নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চড়া দামকে প্রধান সংকট হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এ তালিকায় ৩২ দশমিক ৬ শতাংশ মত নিয়ে তৃতীয় স্থানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং ৩০ দশমিক ৮ শতাংশ সমর্থন নিয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছে কর্মসংস্থান।

এসব সংকট মোকাবেলায় সরকারের পদক্ষেপে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন উত্তরদাতারা। জরিপ অনুযায়ী ৮৯ দশমিক ৪ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন সরকার বিদ্যুৎ খাতের সংকট সামলাতে ব্যর্থ হয়েছে। ৭৯ দশমিক ৬ শতাংশ নাগরিক জ্বালানি ও গ্যাস নিয়ে সরকারের ভূমিকাকে নেতিবাচক মূল্যায়ন করেছেন। আর ৬৯ দশমিক ১ শতাংশ মানুষের মতে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের ভূমিকা অসন্তোষজনক।

দেশের প্রতিটি বিভাগ এবং ভিন্ন ভিন্ন আয় ও শিক্ষাগত যোগ্যতার মানুষের মধ্যে এ বিষয়ে প্রায় অভিন্ন মত দেখা গেছে। তবে মূল্যায়িত সাতটি খাতের মধ্যে একমাত্র শিক্ষায় ইতিবাচক রেটিং পেয়েছে সরকার। ৭০ দশমিক ৬ শতাংশ উত্তরদাতা শিক্ষার পরিচালনায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশ সঠিক নাকি ভুল পথে যাচ্ছে—এমন প্রশ্ন করা হয়েছিল ডপলারের এই জরিপে। উত্তরে ৪৮ দশমিক ৬০ শতাংশ মানুষ বলেছেন, দেশ সঠিক পথে যাচ্ছে। ভুল পথে যাচ্ছে মনে করেন, ৩৫ দশমিক ৬ শতাংশ। আর ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ কোনো উত্তর দেননি। বিএনপির সমর্থকদের ৬৫ দশমিক ৫ শতাংশ, জামায়াত সমর্থকদের ৪৪ শতাংশ ও এনসিপি সমর্থকদের ৫৫ দশমিক ২ শতাংশ বলেছেন, দেশ সঠিক পথে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের সমর্থকদের ক্ষেত্রে এই হার সর্বনিম্ন—৩৪ দশমিক ৪ শতাংশ।

জরিপে ৪৬ দশমিক ৫ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছে, এক বছর আগের তুলনায় তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ হয়েছে। বিপরীতে ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ পরিস্থিতির উন্নতির কথা জানিয়েছে। তবে ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো আশাবাদী ৩৮ দশমিক ১ শতাংশ মানুষ আগামী এক বছরে অর্থনৈতিক উন্নতির প্রত্যাশা করছেন। দেশ নিয়ে ৪৮ দশমিক ৪ শতাংশ এক বছর আগের চেয়ে বেশি আশাবাদী, ৩৯ শতাংশ কম আশাবাদী এবং ৬ দশমিক ২ শতাংশ বলেছেন দেশে কিছুই বদলায়নি।

জরিপের ফল অনুযায়ী, ৬৭ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ এখন নিজেদের এলাকায় অন্ধকারে একা হাঁটতে নিরাপদ অনুভব করেন। অবশ্য পুরুষদের মধ্যে এই হার ৭০ দশমিক ৯ শতাংশ হলেও নারীদের ক্ষেত্রে ৬৪ দশমিক ৩ শতাংশ।

এ ছাড়া জরিপ অনুযায়ী ৯৫ দশমিক ২ শতাংশ মানুষ এখন নিজেদের ধর্ম উন্মুক্তভাবে পালনে নিরাপদ বোধ করছেন। অবশ্য মুসলমান উত্তরদাতাদের মধ্যে ৯৭ দশমিক ১ শতাংশ এ কথা বললেও হিন্দুদের মধ্যে এটি ৮২ শতাংশ আর বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানদের ক্ষেত্রে ৮১ দশমিক ১ শতাংশ।