কুড়িগ্রামের সাংবাদিক আরিফুল ইসলামকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন এক বছরেও জমা দেয়া হয়নি। এ সময়ে চার দফা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার সময় বাড়ানো হয়। তবে এখনো তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ।
নির্যাতনের শিকার আরিফুল গত বছরের ১৫ মার্চ সাবেক জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীনসহ তিন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন আরডিসি নাজিম উদ্দিন, সহকারী কমিশনার রিন্টু বিকাশ চাকমা ও এসএম রাহাতুল ইসলাম। এছাড়া আরো ৩৫-৪০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়। তবে রহস্যজনক কারণে এ মামলার তদন্তের অগ্রগতি হয়নি।
এদিকে দীর্ঘ এক বছরেও তদন্ত প্রতিবেদন জমা না দেয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন কুড়িগ্রামের সাংবাদিকরা। গতকাল দুপুরে শহরের শাপলা চত্বরে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে বক্তব্য রাখেন কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান বিপ্লব, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শ্যামল ভৌমিক, সাংবাদিক অধ্যাপক হাসিবুর রহমান হাসিব, রাজু মোস্তাফিজ, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদক দুলাল বোস প্রমুখ।
কুড়িগ্রাম সদর থানা সূত্রে জানা গেছে, মামলার পর থেকে বদলিজনিত কারণে এ পর্যন্ত তিনবার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তন হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম এখনো চলমান। এরই মধ্যে বেশকিছু সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্ত শেষে আদালতের নির্দেশে মামলার কেস ডায়েরি (সিডি) আদালতে উপস্থাপনও করা হয়েছে। আগামী ২৬ এপ্রিল মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) গোলাম মর্তুজা বলেন, ‘সদ্য বিদায়ী তদন্ত কর্মকর্তার স্থলাভিষিক্ত হলেও এখনো মামলার ডকেট বুঝে পাইনি। ডকেট বুঝে পেলে মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে বলতে পারব।’
তবে কুড়িগ্রাম সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খান মো. শাহরিয়ার বলেন, ‘মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম চলমান। বেশকিছু সাক্ষীর সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে। আমরা কিছু সাক্ষীকে চিঠি দিয়ে ডেকেছি।’
তবে ব্যস্ত থাকার কথা জানিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি ওসি।
সাংবাদিক আরিফুল ইসলামের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু বলেন, ‘পুলিশ প্রবিধানমালা ১৯৪৩-এর ২৬১ প্রবিধান অনুসারে বিরতিহীনভাবে তদন্ত চালালে সবচেয়ে জটিল মামলার তদন্ত শেষ করতেও ১৫ দিনের বেশি সময় লাগার কথা নয়। সাংবাদিক আরিফের মামলাটি সে রকম জটিল কোনো মামলাও নয়। সুতরাং গত এক বছরেও এ মামলার প্রতিবেদন জমা না দেয়া কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয়।










