ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র সবার সঙ্গেই আমাদের ভালো সম্পর্ক রয়েছে। তিন দেশের সঙ্গেই আমাদের স্বার্থ আছে, এ তিন দেশই আমাদের অগ্রাধিকারে থাকবে। বুধবার (১ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেন, নতুন বছরে আমাদের অগ্রাধিকার হচ্ছে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান, এই তিন দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক-কূটনৈতিক ক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা ও ভালো অবস্থা সৃষ্টি করা।

বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকরা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত আনতে না পারলে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের ওপর প্রভাব সম্পর্কে জানতে চান। জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, দুটোই পাশাপাশি চলবে। এটা একটা ইস্যু। তবে আমাদের আরো অনেক স্বার্থের ইস্যু আছে। সেটাও চলবে।

জুলাই অভ্যুত্থান ঘিরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও অপরাধ বিষয়ে জাতিসংঘের তদন্ত কমিটির কাছে দেশের বিভিন্ন সংস্থা থেকে প্রতিবেদন জমা হওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, আমি আশা করি, জানুয়ারির মধ্যে সব রিপোর্ট পেয়ে যাব।

চীনের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তৌহিদ দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার জন্য ২০ জানুয়ারি চীন সফরের পরিকল্পনার কথাও জানান।

তিনি তার আসন্ন দ্বিপক্ষীয় বেইজিং সফরের সময় আলোচনার জন্য নির্দিষ্ট বিষয়গুলো সম্পর্কে বিশদ বিবরণ না দিয়ে বলেন, চীন আমন্ত্রণ জানিয়েছে এবং আমরা অভিন্ন বিষয়াদি আলোচনা করতে যাচ্ছি।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এ সফরকে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের পাশাপাশি চীনের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ঢাকার প্রয়াস হিসেবে বর্ণনা করেন।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তৌহিদ হোসেন বলেন, রাখাইনের পরিস্থিতি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। কারণ, সেখানের গ্রাউন্ড রিয়েলেটির পরিবর্তন হয়ে গেছে। আমি যখন সরকারের বাইরে ছিলাম, তখন এ নিয়ে অনেক কথা বলেছি। এখন বলতে চাই, এই মানুষগুলোকে অধিকার ও নিরাপত্তার সঙ্গে ফেরত পাঠানো। কেননা, এটা না হলে তারা ফেরত যেতে রাজি হবেন না।