বরিশালে পুরোদমে চলছে আমন ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ। এরই মধ্যে কাটা হয়েছে জেলার ৫০ শতাংশ পাকা আমন। তবে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাব ও পোকার আক্রমণে ফলন আশানুরূপ না হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন বহু কৃষক। এরই মধ্যে সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে ক্ষতির মুখে পড়েছে জেলার শীতকালীন সবজি ও রবিশস্যও।
জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বরিশালে এবার প্রায় ১ লাখ ২৭ হেক্টর আমন আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বহু এলাকার ধান। আগৈলঝাড়ার রাজিহার গ্রামের কৃষক তপন কুমার বলেন, এ বছর তিনি এক একর জমিতে আমনের আবাদ করেছিলেন। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাব ও পোকার আক্রমণের কারণে ফলন সন্তোষজনক হয়নি। তাছাড়া বাজারে ধানের দামও কম। ফলে তিনি লোকসানের আশঙ্কা করছেন।
এ গ্রামের আরো বেশ কয়েকজন কৃষক বলেন, ধানে প্রচুর পরিমাণে চিটা হওয়ার পাশাপাশি দেখা দেয় ছেনি পোকার আক্রমণ। এ অবস্থায় ঘরে তোলার পর ধান মাড়াই করতে গিয়ে তারা হতাশ হয়ে পড়েছেন। দেখা গেছে, ক্ষেতের তিন ভাগের দুই ভাগ ধানই নষ্ট হয়ে গেছে। তবে অনেক কৃষক ফলন নিয়ে সন্তোষও প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, বাজার দাম বৃদ্ধি ও সরকারিভাবে সবার ধান সংগ্রহ করা হলে চাষীরা ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন।
এদিকে গত শুক্রবার ভোর থেকে অসময়ের বৃষ্টিতে জেলার বিভিন্ন উপজেলার ধান, শীতকালীন সবজি ও রবিশস্য ক্ষতির মুখে পড়েছে। বৃষ্টিতে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার হেক্টর সবজির একটি বড় অংশ। তাছাড়া এরই মধ্যে খেসারি ডালের ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বৃষ্টির কারণে হেলে পড়েছে অনেক ক্ষেতের পাকা আমনও। পানি জমে থাকায় এসব ধান কাটা যাচ্ছে না।
মুলাদীর সদর ইউনিয়নের নন্দিরবাজার সংলগ্ন এলাকার কৃষক কাঞ্চন হাওলাদার বলেন, তিনি দেড় একর জমিতে ঢেঁড়শ, লালশাক, করলা, টমেটো ও পুঁইশাক চাষ করেছিলেন। অসময়ের বৃষ্টিতে ক্ষেতে পানি জমে যার সিংহভাগই নষ্ট হয়ে গেছে। তাছাড়া খেসারির ডালও এবার ঘরে তুলতে পারবেন কিনা সন্দেহ।
বরিশাল সদরের কুন্দিয়ালপাড়া, টুঙ্গিবাড়িয়ার বিশারত, বডিরকোলা, বাবুগঞ্জের চাঁদপাশা ও গৌরনদীর মাহিলাড়া এলাকার কৃষকরা বলেন, বৃষ্টিতে রবিশস্যের গোড়া পচে গেছে। ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে বিভিন্ন ধরনের সবজি। একইভাবে অসময়ের বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হিজলার মেমানিয়া, হিজলা ও গৌরবদি এলাকার খেসারি, ধান, গম ও সরিষার ক্ষেত।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মো. আফসার উদ্দিন বলেন, অসময়ের বৃষ্টিতে আমন ধান কিছু হেলে পড়েছে। তবে পাকা ধানের ৫০ শতাংশ এরই মধ্যে কেটে নেয়া হয়েছে। এবার জেলায় প্রায় পাঁচ হাজার হেক্টর সবজি চাষ হয়েছে। যার মধ্যে বেশকিছু এলাকার সবজি বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ অবস্থায় কৃষকদের বিকল্প চাষের পরামর্শের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।









