রমজান সামনে রেখে দেশে সব ধরনের ডালের দাম বেড়েছে অস্বাভাবিক। এর মধ্যে ছোলার দাম এক বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ৮৮ শতাংশ। তাই আসন্ন রোজার মৌসুমেও ছোলা ও অন্যান্য ডালের বিকল্প হিসেবে তুলনামূলক কম দামের ডাবলি মটরের দিকে ঝুঁকছে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে সাধারণ ভোক্তা। দেশে ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জের ডাল ব্যবসায়ীরা এ তথ্য জানিয়েছেন।
ব্যবসায়ীরা জানান, ডাবলি বা সাদা মটর সাধারণত চটপটি, ভাজা কিংবা বেসন তৈরিতে ব্যবহার হয়। অস্ট্রেলিয়া, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি হওয়া এ মটরবীজটি আস্ত বিক্রি বেশি হলেও ডাল হিসেবে অতটা জনপ্রিয় নয়। তবে দেশে সব ধরনের ডালের উচ্চ মূল্যের কারণে সম্প্রতি সাদা মটরের চাহিদা বেড়েছে। আসন্ন রোজার মৌসুমেও ছোলার বিকল্প কিংবা ইফতারি তৈরির বেসন হিসেবে এটি অন্যতম ডালপণ্য হয়ে উঠেছে।
খাতুনগঞ্জে সরজমিনে দেখা গেছে, বর্তমানে পাইকারি পর্যায়ে দেশী মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১৬০ টাকায়, নেপাল ও ভারতীয় মাঝারি জাতের মসুর ডাল ১৪০-১৪২ টাকায় লেনদেন হচ্ছে। অন্যদিকে একসময়ের জনপ্রিয় খেসারি ডাল কয়েক সপ্তাহ আগেও পাইকারিতে বিক্রি হয়েছিল ৯৫-১০০ টাকায়। বর্তমানে এর দাম বেড়ে লেনদেন হচ্ছে ১০৮-১১০ টাকায়। মূলত রোজার মৌসুমে সবচেয়ে বেশি চাহিদাসম্পন্ন পেঁয়াজু, বেগুনি, চপ তৈরিতে ব্যবহার হয় খেসারি ডাল। কিন্তু এর দাম বেড়ে যাওয়ায় কম দামের ডাল হিসেবে অ্যাংকরকেই বেছে নেয় অনেকে। সম্প্রতি চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় একসময় পাইকারিতে কেজিপ্রতি ৩৫-৪০ টাকায় বিক্রি হওয়া ডালটির দামও ৭৫-৮০ টাকায় উঠে গেছে। আসন্ন রোজার মাসে ছোলার চাহিদা বেশি থাকলেও বাড়তি দামের কারণে ভোক্তারা আস্ত সাদা মটর কিনছে বেশি। এ কারণে গত ১০ দিনে সেটির দামও কেজিপ্রতি অন্তত ৫ টাকা বেড়ে বর্তমানে ৭২-৭৩ টাকায় লেনদেন হচ্ছে।
চট্টগ্রাম ডাল মিল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আহমেদ রশিদ আমু বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ছোলা, মসুর ও মুগ ডালের দাম কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে আছে। তাই ছোলার বিকল্প হিসেবে সাদা মটরের চাহিদা বেড়েছে। তুলনামূলক কম দাম হওয়ায় রোজায় সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া ছোলার পরিবর্তে মটর বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়া মসুর ও খেসারির দাম বাড়ায় বেসন তৈরিতেও মটর ডালের ওপর ঝুঁকছেন রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ। বিশেষত খাবারের দোকানে এবার সাদা মটর ডালের বেসন দিয়েই পেঁয়াজু, বেগুনিসহ বিভিন্ন ইফতারি তৈরি হবে বেশি।’
চট্টগ্রাম কাস্টমসের তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ছোলা আমদানি হয়েছে ৮৭ হাজার ৪২৫ টন। যদিও এ সময়ে সাদা মটর আমদানি হয়েছে ২ লাখ ২৩ হাজার ৪৩২ টন। আমদানি হওয়া সাদা মটরের অধিকাংশই রোজার মাসে ভোক্তা চাহিদা মেটাবে বলে ধারণা করছেন আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা। ২০২২-২৩ অর্থবছরেও সাদা মটর পর্যাপ্ত আমদানি হয়েছে।
বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত দুই বছরও দেশে প্রতি কেজি ছোলার দাম ছিল সর্বোচ্চ ৭৫-৮০ টাকা। এ বছর খুচরা পার্যায়ে মানভেদে সর্বোচ্চ ১১০-১১৫ টাকায় পৌঁছেছে। রোজার মাসে প্রতিটি পরিবারে ইফতারির প্রধান পণ্য হিসেবে অন্তত পাঁচ-ছয় কেজি ছোলার চাহিদা রয়েছে। তবে আগের বছরের তুলনায় এবার কেজিতে ২৫-৩০ টাকা দাম বাড়ায় কম দামের সাদা মটরেই ভরসা সাধারণ ক্রেতাদের। কেউ কেউ ছোলার সঙ্গে সাদা মটর মিশিয়েও চাহিদা মেটাচ্ছে।
খাতুনগঞ্জের পাইকারি ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সেকান্দর বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আগে রোজায় ছোলা বিক্রি ছিল সবচেয়ে বেশি। বর্তমানে এক বস্তা ছোলা বিক্রি হলে প্রায় দ্বিগুণ বিক্রি হচ্ছে ডাবলি মটর। তাছাড়া দেশে সাধারণ মানুষের প্রধান ডালখাদ্য ছিল মোটা মসুর। আমদানি করা এ ডাল একসময় পাইকারি পর্যায়ে কেজিপ্রতি ৫২-৬০ টাকার মধ্যে পাওয়া যেত। কিন্তু নানা সংকটে এটির দাম পাইকারিতেই ১০০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। ফলে ছোলা ছাড়াও খাবারের মেন্যুতেও ডাল হিসেবে ডাবলি মটরের ব্যবহার বেড়েছে।’ সাধারণত উপকূলীয় এলাকা, প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলো থেকে পাইকারি বাজারে মটর ডালের চাহিদা বেশি আসছে বলে জানিয়েছেন এ ব্যবসায়ী।










