বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন সমন্বয়ককে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ হেফাজতে নেয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ (এইচআরএফবি)। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সুস্পষ্ট বক্তব্য চাইছে সংস্থাটি। গতকাল এক বিবৃতিতে এ দাবি করে এইচআরএফবি। এর আগে শুক্রবার বিকালে হাসপাতাল থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ, নাহিদ ইসলাম ও আবু বাকের মজুমদারকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন স্বজনরা।

এইচআরএফবির বিবৃতিতে বলা হয়, কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লে প্রায় দুই শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে বলে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। আহত হয়েছেন সহস্রাধিক; যাদের চোখ ও অন্যান্য অঙ্গহানির আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় হামলা করে ব্যাপক ক্ষতি করা হয়েছে। এ সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে এইচআরএফবি। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের কোনোরূপ হয়রানি না করে সহিংসতায় জড়িতদের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানানো হয়। এমন ঘটনা সাধারণ শিক্ষার্থী এবং তাদের পরিবারের মধ্যে নিঃসন্দেহে ভীতির সঞ্চার করছে বলে সংস্থাটির মনে করে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, শিক্ষার্থীরা কোনো ধরনের সহিংসতা বা নাশকতার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। বেশ কয়েকজন মন্ত্রীর বারবার প্রকাশ্য বিবৃতির সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এরূপ আচরণ সংগতিপূর্ণ নয়। বরং সংবিধান স্বীকৃত নাগরিকের মতপ্রকাশের অধিকার ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার চর্চার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এ ধরনের কর্মকাণ্ড তাদের ক্ষমতার অপপ্রয়োগের বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছে, যা তাদের পেশাগত শুদ্ধাচারকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। সর্বোপরি এটি বাংলাদেশের জাতীয় আইন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, যা আইনের শাসনের প্রতি জনগণের অনাস্থা তৈরি করবে।