স্বজনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন শেষে কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। পদ্মা নদী পাড়ি দিয়ে ফিরছেন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অনেকে। তবে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে যানবাহন ও যাত্রীর চাপ নেই। এ নৌরুট দিয়ে এক সময় ২১ জেলার মানুষ পার হলেও স্বপ্নের পদ্মা সেতু চালুর পর থেকেই কমেছে ভোগান্তি। বর্তমানে এ নৌরুট দিয়ে মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, কুষ্টিয়াসহ ৮ থেকে ১০ জেলার মানুষ পারাপার হয়। তবে পর্যাপ্ত ফেরি ও লঞ্চ থাকায় স্বস্তিতে নদী পার হচ্ছেন যাত্রীরা।
আজ সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ঘাট এলাকা ঘুরে দেখা যায়, লঞ্চঘাটে থেমে থেমে যাত্রী আসছে। প্রতিটি লঞ্চে ১০০-১৫০ জন যাত্রী নিয়ে ১৫-২০ মিনিট পর পর ছেড়ে যাচ্ছে। এদিকে সকাল থেকেই দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথ পাড়ি দিয়ে কর্মস্থলে ফিরছে মানুষ। ঘাট এলাকায় কোনও যানবাহনের সিরিয়াল নেই। দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস, মাইক্রোবাসসহ যেসব যানবাহন ঘাটে আসছে, সেগুলো সরাসরি ফেরিতে উঠছে। তবে ফেরিঘাটে যাত্রীদের চাপ খুবই কম লক্ষ্য করা গেছে।
যাত্রীরা বলছেন, ঈদ শেষে স্বজনদের রেখে কর্মস্থলে ফিরতে কষ্ট হচ্ছে। তবে ঘাট এলাকায় ভিড় না থাকায় স্বস্তির কথাও জানান তারা।
এ সময় জয়নুল আবেদিন নামে এক যাত্রী বলেন, এ বছরই জীবন প্রথম ঈদযাত্রা যেখানে ভোগান্তি নেই। রাস্তাও ফাঁকা ছিল। সব মিলিয়ে ভালোভাবে আসতে পেরেছি। রাজবাড়ীর রাবেয়া পরিবহনের চালক আলম হোসেন বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর থেকেই চাপ কমেছে দৌলতদিয়া ঘাটে। ফেরি বসে থাকছে গাড়ির জন্য।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) সালাহ উদ্দিন বলেন, ‘ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। তবে ঘাটে যানবাহন ও যাত্রীদের তেমন চাপ নেই। যেসব যানবাহন নদী পার হওয়ার জন্য আসছে, সেগুলো সরাসরি ফেরিতে উঠতে পারছে।’ তিনি জানান, বর্তমানে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ২০টি ফেরির মধ্যে ছোট-বড় ১২টি ফেরি দিয়ে যানবাহন ও যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে। বাকি ফেরিগুলো বসিয়ে রাখা হয়েছে। যানবাহনের ও যাত্রীর চাপ বাড়লে সেগুলো চলাচল করবে।
রাজবাড়ী জেলার দৌলতদিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা( ওসি ) জে এম সিরাজুল করিব বলেন, ঘাটে ঈদকে সামনে রেখে ৩০ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। মানুষ শান্তিতে বাড়ি আসতে পেরেছে, আবার এখন নিরাপদে কর্মস্থলে ফিরছে।









