সদ্য সমাপ্ত আগস্টে দেশে ২ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন বা ২৯৬ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। আগের বছরের একই মাসের তুলনায় এ সময়ে প্রবাসী আয়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২২ দশমিক ৪৯ শতাংশ। তবে এ নিয়ে টানা তিন মাস দেশে আসা রেমিট্যান্সের পরিমাণ ৩ বিলিয়ন ডলারের নিচে রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সার্বিক বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘ব্যাংক খাতের ওপর মানুষের আস্থা বাড়ায় বৈধ চ্যানেলে প্রবাসী আয় বাড়ছে। দেশের অর্থনীতি কিছুটা মন্দা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেলেও রেমিট্যান্সের এ প্রবৃদ্ধি বৈদেশিক লেনদেন এবং সামগ্রিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।’
২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লেখযোগ্য উল্লম্ফন দেখা যায়। এর ধারাবাহিকতায় গত বছরের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের মে পর্যন্ত টানা ছয় মাস প্রবাসী আয় ৩ বিলিয়ন ডলারের সীমা ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে চলতি বছরের মার্চে এক মাসে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স আসে, যা দেশের ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ।
পরবর্তী দুই মাসেও ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। এপ্রিলে দেশে আসে ৩ দশমিক ১২ বিলিয়ন এবং মে মাসে ৩ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার। এরপর থেকে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ কিছুটা কমে আসে।
টানা ছয় মাস ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স আসার পর গত জুনে এ প্রবাহ নেমে আসে ২ দশমিক ৮১ বিলিয়ন ডলারে। জুলাইয়ে আসে ২ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলার। সর্বশেষ আগস্টেও প্রবাসী আয় ৩ বিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করতে পারেনি।
তবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আগস্টের রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২২ দশমিক ৪৯ শতাংশ। ২০২৫ সালের আগস্টে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ডলার।
সব মিলিয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে রেকর্ড ৩৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে।
বাংলাদেশী মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৪ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকা। এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বৈধ পথে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার। আর ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ২৩ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলার।
রেমিট্যান্স প্রবাহের পাশাপাশি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে দেশের গ্রস বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৭ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার। আন্তর্জাতিক হিসাব পদ্ধতি বিপিএম৬ অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ ৩২ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন ডলার।










