বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ভূতেরদিয়া (নতুনচর) এলাকার একটি পাকা সেতু দেবে গেছে। এতে বিপাকে পড়েছে চর এলাকার অর্ধশত পরিবার। পাকা পুলে কাঠের তক্তা দিয়ে সাঁকো বানিয়ে চলছে ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার।

সরেজমিন দেখা গেছে, দক্ষিণ ভূতেরদিয়া (নতুনচর) এলাকাটি কেদারপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত হলেও ভাঙনের কারণে নতুন চর জেগে সুগন্ধা নদী দ্বারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে সৃষ্টি হওয়া নতুন চর ও নতুন চরের উত্তরাংশ আবার একটি খালের কারণে বিচ্ছিন্ন হয়েছে। এ চর দুটি সংযুক্ত করেছে ওই খালের ওপর নির্মিত একটি অর্ধপাকা সেতু। দুই মাস আগে সেতুটির এক প্রান্ত দেবে সড়ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। থানা সদরের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে একটি কাঠের তক্তা দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে এলাকার মানুষ। এতে স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা পড়েছেন বেশী ভোগান্তিতে।

কয়েকদিন আগে আবুবকর নামে এক কৃষক সেতু থেকে পড়ে গিয়ে আহত হয়েছেন। যেকোনো সময় সেতুটি ভেঙে গিয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এমন আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

কেদারপুর ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ছয়-সাত বছর আগে দক্ষিণ ভূতেরদিয়া (নতুনচর) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর যাতায়াতের সুবিধার্থে ইউনিয়ন পরিষদ ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ১ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করেছিল। দুই মাস আগে সেতুটির দক্ষিণ প্রান্তের খুঁটি দেবে যাওয়ায় ওই অংশ হেলে পড়ে সড়ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. আক্তার হোসেন, মো. শাহাব উদ্দিনসহ বেশ কয়েকজন জানান, সেতুটি দিয়ে শুধু শিক্ষার্থীরা নয়, এলাকাবাসীও পারাপার হতে ভয় পায়। এলাকার বেশির ভাগ মানুষ কৃষিনির্ভর। তাদের উৎপাদিত পণ্য নিয়ে বাজারে যেতে হয় ওই সেতু দিয়ে। বর্তমানে সেতুটি দেবে যাওয়ায় এলাকার মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে সেতুটি সংস্কারে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

দক্ষিণ ভূতেরদিয়া (নতুনচর) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. নূরুল ইসলাম বলেন, ছোট ছোট বাচ্চাদের নিয়ে খুব আতঙ্কে আছি। ওই সেতু ছাড়া বিদ্যালয়ে আসার বিকল্প কোনো পথ নেই। যেকোনো সময় সেতুটি ভেঙে যেতে পারে।

কেদারপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. আরিফ মাহমুদ জানান, সেতুটির অবস্থা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। দ্রুত সংস্কারের জন্য এরই মধ্যে ইউপি চেয়ারম্যানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে।

কেদারপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. নূরে আলম বেপারী জানান, সেতুটি সংস্কারে ত্রাণ তহবিল থেকে বরাদ্দ চেয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কাছে আবেদন করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আমীনুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবহিত ছিলেন না। তিনি জানান, যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে উপজেলা প্রকৌশলীকে অবহিত করব।