এটি কেবল একটি রাজনৈতিক ঘটনার স্মারক নয়, বরং নাগরিক সাহস, আত্মত্যাগ, গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা এবং ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ের প্রতীক। সংকটের মুহূর্তে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী, পেশা, বয়স ও মতের মানুষ যে সাহস, সংহতি ও দায়িত্ববোধের পরিচয় দিয়েছে, তা প্রমাণ করেছে যে জাতীয় স্বার্থ যখন মুখ্য হয়ে ওঠে, তখন সব বিভাজনের সীমারেখাও অতিক্রম করা সম্ভব। এ সম্মিলিত চেতনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক মূল্যবান সম্পদ, যা ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রচিন্তার মূল প্রেরণা।’
গতকাল সন্ধ্যায় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির এবং জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪ স্মরণানুষ্ঠান’-এ কথা ব্যক্ত করেন তিনি।
রিজভী বলেন, ‘মূল উপলব্ধিটি হলো—আপনি সংবিধান সংশোধন করলেন, পার্লামেন্ট অ্যাক্টের মাধ্যমে আইন প্রণয়ন করলেন, কিন্তু দেখা গেল কোনো এক সময় ছিদ্রপথে ফ্যাসিবাদের আগমন ঘটল। তখন এ আইনগুলো কিন্তু আমাদের সুরক্ষা দিতে পারে না। যেমন শেখ হাসিনা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার জন্য ধ্বংসাত্মক আন্দোলন করেছিলেন, আবার পরবর্তীতে নিজের হাতেই তা সংবিধান থেকে মুছে দিয়েছিলেন। তাই কাগজে লেখা একটি আইন সবাই মান্য করবে—এমন কোনো কথা নেই। মূল বিষয়টি হলো মানুষের মানসিকতা। এটি শুধু লিগ্যাল বা আইনি বিষয় নয়, এটি একটি মনস্তাত্ত্বিক বিষয়।’
তিনি বলেন, ‘রাজনীতিবিদদের একটি কমন পয়েন্টে আসতেই হবে। আমরা মতাদর্শগত ঝগড়াঝাঁটি বা আলোচনা-সমালোচনা করলেও সমগ্র রাষ্ট্র ব্যবস্থা যেন একটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত না হয়—সেই দিকটা মাথায় রেখে কাজ করতে হবে। মানসিকতার এ পরিবর্তন না হলে সংবিধান সংশোধন বা আইন প্রণয়ন—কোনোটিই কার্যকর হবে না। শুধু ভূখণ্ড, অর্থনীতি কিংবা রাজনৈতিক কাঠামোর ওপর একটি জাতির শক্তি নির্ভর করে না। তার প্রকৃত ভিত্তি নির্মিত হয় ইতিহাস, স্মৃতি ও মূল্যবোধের ওপর।’










