আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিহীন ও প্রান্তিক কৃষকদের অধিকার রক্ষায় রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে জোরালো অঙ্গীকার দাবি করা হয়েছে। একইসঙ্গে দাবিগুলো দলীয় নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি)।
আজ বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আয়োজিত এক জাতীয় সেমিনারে বক্তারা এসব দাবি জানান। ভূমিস্বত্ব, টেকসই কৃষি, খাসজমি ব্যবস্থাপনা ও খাদ্য নিরাপত্তায় সমবায়ভিত্তিক উদ্যোগের ভূমিকা শীর্ষক এ সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন এএলআরডির চেয়ারপারসন খুশী কবির।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা। তিনি ভূমিহীনদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আটটি সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— ভূমিহীন, প্রান্তিক কৃষক, আদিবাসী ও নারী কৃষকদের মধ্যে কৃষি খাসজমি সমবায়ভিত্তিতে বরাদ্দ, বিধবা নারীদের জন্য খাসজমি বরাদ্দের জটিল শর্ত বাতিল, খাসজমি বন্দোবস্ত নীতিমালায় ভূমিহীন সমবায়কে অগ্রাধিকার, কৃষি ঋণ বিতরণে প্রান্তিক ও নারী কৃষকদের যৌথ চাষাবাদকে গুরুত্ব দেয়া, নারী কৃষকদের জন্য আলাদা কৃষি কার্ড চালু, সংবিধানের ১৩ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সমবায়ভিত্তিক সম্পদ মালিকানায় আইন সংস্কার, আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণমুক্ত জাতীয় সমবায় সম্প্রসারণ সংস্থা গঠন এবং জাতীয় ভূমি ব্যবহার নীতিতে সমবায়ভিত্তিক কৃষিকে কেন্দ্রীয় কৌশল হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা।
আলোচনায় অংশ নিয়ে ইনসিডিন বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক এ কে এম মাসুদ আলী বলেন, সমবায় আইন সংশোধন করে জনগণের কল্যাণে সমবায় গড়ে তুলতে হবে। ক্ষুদ্র কৃষকের সমবায় বড় অর্থনীতির ভিত শক্ত করতে পারে বলেও তিনি মত দেন।
রুলফাওয়ের নির্বাহী পরিচালক আফজাল হোসেন বলেন, কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য ও শ্রমের সঠিক মজুরি নিশ্চিত না হওয়ায় কৃষকরা কৃষিকাজে টিকে থাকতে পারছে না। এ সময় কৃষিজমি সুরক্ষায় রাষ্ট্রের দ্বৈত অবস্থান থেকেও সরে আসার তাগিদ দেন তিনি।
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক রিজওয়ানুল ইসলাম বলেন, সরকার সমবায়ে সহযোগীর ভূমিকার বদলে নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা নিচ্ছে। এতে সমবায় অগণতান্ত্রিক ও আমলাতান্ত্রিক কাঠামোয় আটকে পড়ছে। এ অবস্থায় সমবায় আইন সংস্কার জরুরি।
বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, রাজনৈতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়ন না হওয়ার দায় এড়ানো যায় না। করপোরেট আগ্রাসন থেকে কৃষককে বাঁচাতে সমবায়কে শক্তিশালী করতে হবে।
এ সময় পাবনার চাটমোহরের জনসমবায় দলের নেত্রী শরীফা আক্তার নিপা ও ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার জনসমবায় দলের সদস্য শিল্পী বেগম তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, নারীরা কৃষিকাজ করলেও কৃষক হিসেবে স্বীকৃতি পান না। সমবায়ভিত্তিক খাসজমি চাষের সুযোগ পেলে তারা খাদ্য নিরাপত্তায় বড় ভূমিকা রাখতে পারবেন।
সভাপতির বক্তব্যে খুশী কবির বলেন, কৃষিভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোগ টিকিয়ে রাখতে সমবায় আইনের সংস্কার প্রয়োজন। একই সঙ্গে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়া সব রাজনৈতিক দলের ইশতেহারে এসব দাবি অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।










