গতকাল ভোর ৪টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দাউদকান্দি, বুড়িচং, চান্দিনা ও চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে। এছাড়া গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন জেলায় পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে বিস্তারিত:
কুমিল্লা: পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দাউদকান্দি ও বুড়িচংয়ের দুটি ঘটনায় দুজন করে মোট চারজন নিহত হয়েছেন। চৌদ্দগ্রামে দুটি ঘটনায় দুজন এবং চান্দিনায় একটি ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিনজন কাভার্ড ভ্যান ও ট্রাকচালক, দুজন অটোরিকশার চালক, একজন স্কুলছাত্র এবং একজন পথচারী। হাইওয়ে থানা পুলিশের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। মহাসড়কের দাউদকান্দির বারপাড়া এলাকায় নিহত দুজন হলেন দাউদকান্দি উপজেলার সরকারপুর গ্রামের আবদুল বারেক (৫৩) ও মোস্তফা (৫২)। তারা অটোরিকশার চালক ছিলেন।
হাইওয়ে পুলিশ জানায়, ভোর ৪টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে উপজেলার বারপাড়া এলাকায় কারী সাহেবের মাজারের বিপরীত পাশে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে পেছন থেকে অজ্ঞাত একটি গাড়ি ধাক্কা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলে যাত্রী আবদুল বারেক ও মোস্তফা নিহন হন। এ ঘটনায় অটোরিকশার চালক আহত হয়েছেন।
এদিকে বুড়িচং উপজেলার নিমসার বাজার এলাকায় ভোরে একটি কাভার্ড ভ্যানের পেছনে ট্রাকের ধাক্কায় দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো দুজন। নিহত দুজন কাভার্ড ভ্যান ও ট্রাকচালক বলে জানিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ। নিহত দুজন হলেন নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার লালপুর এলাকার প্রয়াত হানিফ মিয়ার ছেলে কাভার্ড ভ্যানের চালক জহিরুল ইসলাম (২৭) এবং মেহেরপুর সদরের কেশবপুর এলাকার খোদা বক্সের ছেলে ট্রাকচালক সোহেল রানা (৩৫)।
অন্যদিকে চান্দিনায় সকাল ৯টার দিকে মহাসড়কের কাঠেরপুল এলাকায় সড়ক পার হওয়ার সময় লরিচাপায় এক স্কুলছাত্র নিহত হয়েছে। কোচিং সেন্টার থেকে প্রাইভেট পড়ে বাসায় ফেরার পথে চট্টগ্রামগামী লেনে একটি লরি তাকে চাপা দেয়। পরে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে বুড়িচংয়ের কাবিলা ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত ইবনে তাইম (১৫) চান্দিনা পৌরসভার রাড়িরচর এলাকার বাবুল মিয়ার ছেলে। সে স্থানীয় বড় গোবিন্দপুর আলী মিয়া ভূঁইয়া উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীতে পড়ত।
এছাড়া চৌদ্দগ্রাম উপজেলার গাংরা এলাকায়ও একটি কাভার্ড ভ্যান বিকল হলে চালক সড়কে নেমে গাড়িটির সমস্যা দেখার চেষ্টা করেন। এমন সময় চট্টগ্রামমুখী লেনে আরেকটি কাভার্ড ভ্যান পেছন থেকে দ্রুতগতিতে এসে চাপা দিলে ঘটনাস্থলে বিকল হওয়া কাভার্ড ভ্যানের চালক নিহত হন। নিহত চালকের নাম ওমর ফারুক (৩৯)। তিনি নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার কাবিলপুর গ্রামের বাসিন্দা। একই উপজেলায় চৌদ্দগ্রাম বাজার এলাকায় সোনালী ব্যাংকের সামনেও দ্রুতগতির একটি কাভার্ড ভ্যানের চাপায় এক বৃদ্ধা ঘটনাস্থলে নিহত হন। নিহত হাজেরা বেগমের (৭০) বাড়ি চৌদ্দগ্রাম উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামে।
মাদারীপুর: মাদারীপুরে গ্যাস সিলিন্ডার ভর্তি ট্রাক ও পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরো একজন। ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মাদারীপুর সদর উপজেলার সমাদ্দার এলাকায় বিসমিল্লাহ অটো রাইস মিলের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত অজয় কুমার হাওলাদার বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলার তালুকের চরদুয়ানা গ্রামের শৈলেন চন্দ্র হাওলাদারের ছেলে।
ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহে ব্যাটারিচালিত ভ্যানের ধাক্কায় শমসের আলী (৭৫) নামের এক পথচারী নিহত হয়েছেন। শহরের আরাপপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শমসের আলী হরিণাকুণ্ডু উপজেলার সাবেক বিন্নি গ্রামের মৃত শামসুদ্দিন মন্ডলের ছেলে। তিনি শহরতলি মুরারীদহ গ্রামে ছেলের বাড়িতে থাকতেন।
ময়মনসিংহ: ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় রিয়াদ হোসেন (২৪) নামে এক ঠিকাদার নিহত হয়েছেন। ঢাকা-হালুয়াঘাট মহাসড়কের কাড়হা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত রিয়াদ হোসেন ফুলপুর পৌরসভার দিউ গ্রামের নবী হোসেনের ছেলে। তিনি ঠিকাদারি ব্যবসায় যুক্ত ছিলেন।
নেত্রকোনা: পূর্বধলায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় রায়হান (৭) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। উপজেলার জারিয়া ইউনিয়নের নাটেরকোনা গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত রায়হান ওই এলাকার বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর মিয়ার ছেলে।
চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় মাইক্রোবাস ও কাভার্ড ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে ওবায়দুল্লাহ (১৫) নামে নবম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের খান দিঘি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ওবায়দুল্লাহ কক্সবাজারের রামু উপজেলার ঈদগড় ইউনিয়নের বাসিন্দা। সে ঈদগড় আমির মোহাম্মদ বদি উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিল।










