ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী ঢাকা-১২ আসনে। এ আসনে ১৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আর সবচেয়ে কম প্রার্থী রয়েছেন পিরোজপুর-১ আসনে, মাত্র দুজন। গতকাল এসব তথ্য দেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।

এদিন সামগ্রিক নির্বাচনী পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমাদের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। কিছু আসনে এখনো ব্যালট পাঠানো হয়নি, তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তা সম্পন্ন হবে।’

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে আনোয়ারুল ইসলাম জানান, নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চসংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এত বড় পরিসরে ডিপ্লয়মেন্ট এর আগে কখনো দেখা যায়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া নির্বাচনে ভোটের হার ৫৫ শতাংশের কম বা বেশি হতে পারে বলে ধারণা করছেন মো. আনোয়ারুল ইসলাম।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, দেশের ১১৬টি সংসদীয় আসনে এরই মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ব্যালট পেপার পৌঁছে গেছে। বাকি সব আসনে আজকের মধ্যে ব্যালট পেপার পৌঁছানো হবে।

ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, আদালতের নির্দেশে শেষ মুহূর্তে কয়েকজন প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ায় কিছু আসনে ব্যালট পুনর্মুদ্রণ করতে হয়েছে। এ কারণেই ব্যালট পেপার পাঠাতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব আসনে ব্যালট পৌঁছে দেয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে তিনি জানান, নির্বাচনের আগে ও পরে মোট সাতদিন সেনাবাহিনী মাঠে থাকবে, আটদিন আনসার বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। পুলিশ এরই মধ্যে মাঠে রয়েছে এবং সেনাবাহিনীও আংশিকভাবে মোতায়েন রয়েছে।

এছাড়া নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে ১ হাজার ৫০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন করা হচ্ছে। তারা ৮-১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাঠে থাকবেন। মূলত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন তারা।

বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটদেরও ৮-১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সাতদিন মাঠে থাকার কথা রয়েছে।

নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে প্রায় আট লাখ কর্মকর্তা নিয়োজিত থাকবেন। পাশাপাশি প্রায় নয় লাখ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য নির্বাচন ও গণভোটে নিরাপত্তা দায়িত্ব পালন করবেন।

পর্যবেক্ষক প্রসঙ্গে ইসি জানায়, ৮১টি দেশী নিবন্ধিত সংস্থার ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন পর্যবেক্ষক দায়িত্ব পালন করবেন। এদের মধ্যে ৭ হাজার ৯৯৭ জন কেন্দ্রীয় পর্যায়ে এবং ৪৭ হাজার ৪৫৭ জন স্থানীয়ভাবে পর্যবেক্ষণে থাকবেন। এছাড়া প্রায় ৫০০ জন বিদেশী পর্যবেক্ষকও নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন।